ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। এই সংখ্যাটি যুদ্ধের আগে দেশটির মোট রিপার ড্রোন বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ। এই বিপুল পরিমাণ ড্রোন হারানোর ঘটনা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ড্রোনের সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন জানিয়েছেন, সব কটি ড্রোন ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার হামলায় ধ্বংস হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে ড্রোনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষে থাকা পরিচালনাকারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যদিও এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এর আগে গত জুলাই মাসে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে, ইরান প্রায় ৩০টি রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান নিয়মিতভাবে এসব ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে আসছে।
এমকিউ-৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চালকবিহীন সামরিক বিমান। প্রতিটি ড্রোনের দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৫ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যদিও ব্যবহৃত সরঞ্জামের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্যের তারতম্য ঘটে। রিপার ড্রোন একটানা দীর্ঘ সময় আকাশে উড়তে সক্ষম এবং এটি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ কেজি পর্যন্ত অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বহন করতে পারে। শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে এই ড্রোনকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অপরিহার্য সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপকভাবে রিপার ড্রোন ব্যবহার করেছে। মে মাসে হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল কেনেথ এস. উইলসবাখ বলেছিলেন, এই যুদ্ধে রিপার ড্রোন সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং অনেক হামলায় এগুলো ব্যবহৃত হয়েছে।
রিপার ড্রোন হারানোর এই তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিয়ে নানা উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।
তবে প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঘাটতির কথা অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান পিট হেগসেথকে অস্ত্রের ঘাটতির জন্য দায়ী করে ট্রাম্প সমালোচনা করেছেন—এমন খবর প্রকাশিত হলেও হোয়াইট হাউস তা অস্বীকার করেছে। পরে ট্রাম্প নিজেও হেগসেথের প্রশংসা করেন।
প্রকাশ্য অস্বীকৃতির আড়ালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর হাতে আসা একটি স্মারকে উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অস্ত্র উৎপাদনের কর্মসূচি নাটকীয়ভাবে দ্রুত করতে হবে এবং অবিলম্বে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
এত দিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনায় ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি প্রাধান্য পেলেও, এখন রিপার ড্রোনের সরবরাহে ঘাটতি দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটন যখন নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে, তখন ড্রোনের মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: Daily Amar Desh


মন্তব্য