চীনের হেনান প্রদেশে এক অদ্ভুত ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। হেনান কুয়াংশান ক্রেন কোম্পানির এক তরুণ কর্মী ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করেন। সেই অনুষ্ঠানে তাঁর সহকর্মীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুই পেইচুনও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন সিইও সুই পেইচুনের মনে কিছু একটা খটকা লাগে। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, বর নিজের মাকেই বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাননি।
তরুণের এমন আচরণের পেছনে কারণ ছিল মায়ের সাধারণ চেহারা। নিজের মা বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে অতিথিদের সামনে তিনি লজ্জিত হবেন—এমনটাই ছিল ওই তরুণের আশঙ্কা। এই অকৃতজ্ঞতার বিষয়টি জানার পর প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সুই পেইচুন তাৎক্ষণিকভাবে ওই কর্মীকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। শুধু চাকরিচ্যুতিই নয়, ওই বৃদ্ধ মায়ের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁকে নিজের প্রতিষ্ঠানেই একই বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর মা একাই অনেক কষ্ট করে সন্তানকে বড় করেছিলেন। অথচ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই ছেলেই মাকে নিয়ে লজ্জা বোধ করেন। বিয়ের দিন মা যেন অনুষ্ঠানে আসতে না পারেন, সেজন্য তাঁকে কারখানার পাশে একটি জায়গায় একা বসিয়ে রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি হেনান কুয়াংশান ক্রেন কোম্পানির শিক্ষানবিশ কর্মীদের জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তরুণদের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে সুই পেইচুন নিজেই এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন।
চাকরি হারানোর পর তরুণটি নিজের পদ ফিরে পাওয়ার জন্য বারবার আকুতি-মিনতি করলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন চেয়ারম্যান। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মায়ের প্রতি এমন অকৃতজ্ঞ আচরণ করা কর্মীর জন্য প্রতিষ্ঠানে কোনো জায়গা নেই। উল্লেখ্য, সুই পেইচুন তাঁর কর্মীদের বড় অঙ্কের বোনাস দেওয়ার জন্য পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সূত্র: Prothom Alo – International


মন্তব্য