নিজস্ব প্রতিবেদক >>> চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর মৌজার সাগরপাড়ে অবস্থিত ১৯৪ একর আয়তনের দৃষ্টিনন্দন ডিসি পার্কে আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘চট্টগ্রাম ফুল উৎসব ২০২৬’। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এ ফুল উৎসবে স্থান পেয়েছে দেশি-বিদেশি ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের চারা।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফুল উৎসবের উদ্বোধন করবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ডিসি পার্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, এবারের ফুল উৎসবে নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে জিপলাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার ট্রি। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থাকছে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ফুল উৎসবের অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে মাসব্যাপী গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ, কাওয়ালি সন্ধ্যা ও মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল। এছাড়া নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ বিষয়ে প্রচারণার জন্য একটি বিশেষ স্টল স্থাপন করা হয়েছে।
রংবেরঙের ক্যামেলিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, হলিহক, স্নোবল, নাসর্টিয়াম, লিলিয়াম ও গেজানিয়াসহ নানা বিদেশি ফুলে সেজেছে পুরো পার্ক। ফুল দিয়ে নির্মিত ট্রি হাউস, ট্রেন, বক, ময়ূরসহ বিভিন্ন নান্দনিক স্থাপনাও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ফুল ও জলাশয় মিলিয়ে ডিসি পার্ক ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রজাপতি, মৌমাছি, ফড়িং ও রঙিন মাছের উপস্থিতি বেড়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, উৎসব চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য পার্ক উন্মুক্ত থাকবে। টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা, অনলাইনে টিকিট কেনার সুবিধাও রয়েছে। এ উৎসবে প্রায় ২০ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় এই ফুল উৎসবে এবছর নতুন নতুন আয়োজন যুক্ত হওয়ায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “১৪০ প্রজাতির ফুলের সমারোহ ও নানা আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসী এবছর একটি ব্যতিক্রমধর্মী ফুল উৎসব উপভোগ করতে পারবেন।”
২০২৩ সালে যখন সর্বপ্রথম ফৌজদার হাটস্থ ডিসি পার্কে ফুল মেলা শুরু হয়, তখন থেকেই দর্শকদের মাঝে বেশ কৌতুহল ও উদ্দিপনা পরিলক্ষিত হয়। যার ধারাবাহিকতা প্রতিবছরই দেখা গেছে। ডিসি পার্কের এই ফুল মেলার ফুল উৎসবকে ঘিরে আয়েজক কমিটিও নতুন নতুন কিছু সংযোজনের মাধ্যমে ভ্যারিয়েশন আনার চেষ্টা করেছে। যা নতুন নতুন দর্শক টানতে সহায়ক হয়েছে। সাগর পাড়স্থ প্রাকৃতিক নান্দনিকতায় বিশাল আয়তন জুড়ে দেশি-বিদেশী বাহারী ফুল ও ফুলের চারা এবং বিনোদনমুলক বিভিন্ন ইভেন্টে নিজেদের হারিয়ে দিতে হাজার হাজার দর্শকের উপছে পড়া ভীড়ে সরগরম থাকে এই ফুল মেলা।











মন্তব্য