আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ,নিজস্ব প্রতিবেদক।। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সর্বোচ্চ অভিভাবক নগর পুলিশ কমিশনারের সরাসরি নির্দেশনাও মানছে না মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা। নগরবাসীর পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা ও হয়রানি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রতি মঙ্গলবার আয়োজিত ‘ওপেন হাউস ডে’ অনুষ্ঠানে সিএমপি কমিশনার সরাসরি ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও থানা পর্যায়ে তা উপেক্ষিত হচ্ছে বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় পত্রিকার সহ-সম্পাদকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা সিএমপির অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ও মাঠপর্যায়ের তদারকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই সাংবাদিক অতর্কিত হামলার শিকার হয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণাদিসহ সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে যান। তবে থানা পুলিশ মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী সিএমপির ‘ওপেন হাউস ডে’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সরাসরি সিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। কমিশনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
কমিশনারের নির্দেশনার পরও থানা থেকে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক পরবর্তী ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠানে পুনরায় গিয়ে কমিশনারকে বিষয়টি অবহিত করেন। ওই সময় সংশ্লিষ্ট ওসি অনুপস্থিত থাকায় উপস্থিত সেকেন্ড অফিসারকে সিএমপি প্রধান পুনরায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, সিএমপি কমিশনারের দুই দফা স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ওসি তাঁকে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন থানায় ঘোরান। শেষ পর্যন্ত থানা মামলা না নেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলা দায়ের করেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে-স্বয়ং পুলিশ কমিশনারের সরাসরি নির্দেশনাও যদি কোনো থানার কর্মকর্তা অগ্রাহ্য করতে পারেন, তবে সাধারণ ও নিরুপায় নগরবাসী পুলিশের কাছ থেকে কীভাবে ন্যায়বিচার বা আইনি সেবা পাবেন? এভাবে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হলে ওপেন হাউস ডে -এর মতো ইতিবাচক উদ্যোগ কি স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা আর প্রচারণায় আটকে যাবে?
এদিকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সিএমপির নিয়মিত ‘ওপেন হাউস ডে’ অনুষ্ঠানে নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে ফের কড়া বার্তা দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন,সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া সহজে পুলিশের আইনি সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতেই হবে। যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত সমাধান করতে হবে।
অনুষ্ঠানে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেন পুলিশ কমিশনার। অনুষ্ঠানে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিপ্লবী ও সাধারণ নাগরিকদের মতে, সিএমপির এই ‘ওপেন হাউস ডে’ উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে কমিশনারের দেওয়া নির্দেশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবে রূপ পাচ্ছে কি না—তা নিয়মিত ফলোআপ ও তদারকির আওতায় না আনলে এবং আদেশের অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের কাছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা সংঙ্কটে পড়তে পারে।