মোঃ কামরুজ্জামান
হায়াতের অংক হিসেব করতে গেলে একজন মানুষের জীবন খুব অল্প সময়ের। পৃথিবীতে মানুষ যখন একজন যোদ্ধা হিসেবে বেঁচে থাকে তখন তার জীবনকে মহাসাগরের মতো মনে হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সৈনিককে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য তাকে বিভিন্ন ধরনের সংকটময় সময় পার করতে হয়। যুদ্ধের ময়দানে বিন্দুমাত্র অবহেলা হতে পারে একজন সৈনিকের শেষ সময়। একজন মানুষ মরন অবধি বিভিন্ন যুদ্ধের সম্মুখীন হয়। আর এই অল্প সময়ে মানুষকে কতই কিনা মেনে নিতে হয়। মহোজনের হিসেব মিলাতে উপেক্ষা করতে হয় অনেক কিছুকে। প্রত্যেক মানুষকে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে হলে একজন দক্ষ সৈনিক অবশ্যই হতে হবে। আমি সব সময় মানুষের জীবনকে যুদ্ধক্ষেত্র বলে থাকি। এই কারনে যে আপনার জীবনের হিসেব অনুযায়ী মহজনের হিসেব মিলবে কিনা সেই প্রচেষ্টা অবশ্যই থাকতে হবে। আর এই প্রচেষ্টায় যুদ্ধ, আর আপনার গোটা জীবন যুদ্ধক্ষেত্র। আবার আপনাকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সাথে তো প্রতিযোগিতা করতেই হবে। আপনার মহোজনের সাথে সম্মিলিত ব্যাবসায়ীদের সাথে যেরূপভাবে মিলতে হবে তার থেকে(হাজার গুন) বেশী সতর্কভাবে মিশে থাকতে হবে ,যারা আপনার মহাজনের আপনার ব্যাবসা নীতির সাথে একমত নয় ।যারা আপনার ব্যাবসা নীতির সাথে একমত নয় তারা চাইবে আপনার ব্যায়সায় বালি দিতে। এদের কাজ থেকে সতর্ক থেকে মহাজনের হিসেব পাকাপোক্ত করতে পারলেই তুমি সফল। প্রত্যেক মানুষের মাঝেই একটি শৈল্পিক গঠনশৈলি আছে। মানুষের এই শৈল্পিক বৈশিষ্ঠই তার একমাত্র পরিচায়ক। একজন অঙ্কন শিল্পি তার চিত্রকর্মের মধ্যমে তাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে। তেমনিভাবে কবি, সাহিত্যিকগণ তার অন্তরে লালনকৃত ভাব ফুটিয়ে তোলে তার লেখনির মধ্যমে। মানুষ হিসেবে যদি তার শৈল্পিক ভাব প্রকাশ করতে চায় তাহলে , আমরা খুব সহজে তাকে বুঝতে পারি। একজন মানুষ কিভাবে অন্যের সাথে কথা বলে, সেটা নমনীয়, দাম্ভিকতা বা আটাস প্রকৃতির, এর থেকে আমরা ঐ ব্যাক্তির ব্যক্তিত্বকে সহজে বুঝতে পারি। এরুপভাবে একজন শিক্ষক , হিসেবে শিক্ষক কেমন?, ছাত্র হিসেবে কেমন ছাত্র!, কর্মকর্ত হিসেবে কেমন কর্মকর্তা! কর্মচারী হিসেবে কেমন রাজনীতিবীদ হিসেবে কেমন! সমাজ জীবনে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সে কেমন কিভাবে পালন করেছে বা করবে সেটাই তার শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য। মানুষ মানেই তাকে প্রদর্শন করে। একজন ইঞ্জিনিয়ারের কথা যদি বলা হয় সে একটি বিল্ডিংয়ের ডিজাইন করে ।, আর এই ডিজাইন নিয়ে কিছু মিস্ত্রি কাজ শুরু করে । আপনি যদি কাজের শুরুর দিকে দেখেন তাইলে আপনি কিছু অনুমান করতে পারবেন কিনা ঠিক জানা নাই । তারা ইঞ্জিনিয়ারের ডিজাইন বাস্তবায়ন করার -জন্য-ধিরে ধিরে কাজ করে। কাজটি যখন সম্পূন হয় তখন একটি সুন্দর বিল্ডিংয়ের আকার ধারন করে । মানুষ তখন দূর থেকে দেখেও বাড়ীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে ঠিক একজন ব্যবসায়ী ব্যবসায়িক সৌন্দর্য্য এভাবেই প্রদর্শন করে। একইভাবে একজন মানব শিশু জম্ম গ্রহন করার পর তার নিজের পরিচয় (মানুষ হিসেবে) তুলে ধরতে তাকে করতে হয় কঠোর পরিশ্রম। নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তাকে সমাজ থেকে নিতে হয় কঠোর প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষনই তার কাধে তুলে দেয়-কঠিন দায়িত্ব। এ দায়িত্ব একজন মানুষের জন্য-হয়ে ওঠে কঠিন পরীক্ষা। একজন সামাজিক জীব হিসেবে তাঁর কাজ ও কর্মকান্ড সমাজে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেয় সে আসলে কোন ধরনের জীব। একজন শৈল্পিক জীব হিসেবে তার আচরনেই প্রকাশ করে বা তুলে ধরে সে আসলে মানুষ কিনা। আপনি নিজেকে তখনই মানুষ হিসেবে দাবি করতে পারবেন যখন আপনার আচরণ আর পশুর আচরণে পার্থক্য লক্ষ করতে পারেন অথবা পশুর আচরণ যদি আপনার মধ্যে পরিলক্ষিত না হয় । আর যদি পার্থক্য লক্ষ করতে না পারেন তাহলে আপনি মানুষ হইতে পারেন নাই। আপনি মানুষ হিসেবে অথবা সুস্থ স্বাভাবিক জীব হিসেব দাবি করলে আপনি কখনই মাদক সেবন করতে পারেন না বা সুদ ঘুষ, কিংবা কোন প্রকার অপকর্মে জড়াতে পারেনা বা এগুলো সহ্য করতে পারেন না। আপনি মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে চাইলে অবশ্যই আপনার আচরণ এমন হওয়া দরকার সমাজের কোন জীব যাতে আপনার দ্বরা কষ্ট না পায়। সমাজের উপকারী সকল বস্তুকে হেফাজত করা একজন মানুষের অন্যতম দ্বায়িত্ব। একজন ব্যবসায়ী তার মুনিবকে বা তার মুনিবের সাথে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক্য গড়ে তুলতে চাইলে তাকে অবশ্যই মানুষ হিসেবে সমাজে বসবাসকারী-মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে সেবা নিশ্চিত করতে পারলেই সে সফল হবে। মানুষ হিসেবে মানুষের বন্ধু হয়ে সাথে থাকা ,এবং একে অপরের হুমকি হিসেবে পরিচয় না করা এবং মহাজনকে সন্তষ্ঠ করতে পারাই আমাদের নির্ধারিত হায়াতে মহজনের কাছে ফিরে যাওয়াই একজন সৈনিক সৈনিকের সফলতা।