খাগড়াছড়ি পানছড়ি প্রতিনিধি: মোঃ নূর হোসাইন বাবু
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে উপজেলার ১১টি পূজামণ্ডপে চলছে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। অন্যদিকে, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে নজরদারি।উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পানছড়িতে পূজার সার্বিক পরিবেশ ভালো রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।দূর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) ও লোগাং জোন। নিয়মিত ও বিশেষ টহলের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সঙ্গে ড্রোনের মাধ্যমে মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক ও লোগাং জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, পিপিএম (সেবা), বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন। এর আগে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বিজিবির পক্ষ থেকে পানছড়ি ও লোগাং এলাকার ছয়টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। মণ্ডপগুলো হলো—পানছড়ি বাজার কেন্দ্রীয় দেবালয়, আদি ত্রিপুরাপাড়া মন্দির, সাঁওতালপাড়া লোকনাথ সেবাশ্রম, লোগাং হেডম্যানপাড়া দুর্গামন্দির, লোগাং বাজার বিগ্রহ মন্দির ও অষ্টমঙ্গলা শিবমন্দির।এদিকে, এবারের দুর্গোৎসবে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বড় সাঁওতালপাড়ার সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘দাসাই’ নাচ। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সাঁওতাল তরুণেরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ঘুরে ঘুরে এ নাচ পরিবেশন করছেন। তাঁদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উৎসবে যোগ হয়েছে ভিন্নমাত্রা। আয়োজকেরা জানান, দাসাই নাচের মাধ্যমে পাওয়া উপহারসামগ্রী দিয়ে বিজয়া দশমীর পর সর্বজনীন খিচুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হবে।পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে।উপজেলায় এ বছর ১১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মণ্ডপগুলো হলো—পানছড়ি বাজার কেন্দ্রীয় দেবালয়, আদি ত্রিপুরা কালিমন্দির, সাঁওতালপাড়া লোকনাথ সেবাশ্রম দুর্গামন্দির, কুড়াদিয়াছড়া দুর্গা শ্রীশ্রী মন্দির, লোগাং বাজার অষ্টমঙ্গলা দুর্গামন্দির, বাউরাপাড়া দুর্গামন্দির, বৈশাখ কুমারপাড়া শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, বাঁশপাড়া দেবালয় মন্দির, মরাটিলা সার্বজনীন শিবমন্দির, লোগাং বাজার বিগ্রহ কালীমন্দির ও লোগাং হেডম্যানপাড়া দুর্গামন্দির।পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, প্রশাসন, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ভক্তরা স্বস্তির সঙ্গে পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে এবারের দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।