আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধানের চট্টগ্রামে এসে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে বন্দরনগরী। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরের জে এম সেন হলের প্রধান পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ, যার ফলে এবারের দুর্গাপূজার আয়োজনে যুক্ত হয়েছে অনন্য রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক গুরুত্ব।প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তৎপরতায় পুরো নগরীতে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি।উৎসবের আমেজ ও ব্যাপক প্রস্তুতি: প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে নগরের কাজীর দেউড়ি, জামালখান ও আন্দরকিল্লাসহ বিভিন্ন প্রধান সড়কে কার্পেটিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। সড়কের বিভাজকে নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে, অপসারণ করা হয়েছে অবৈধ পোস্টার, ব্যানার ও ফুটপাতের দোকানপাট। একই সঙ্গে জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ প্রাঙ্গণে চলছে আলোকসজ্জা, প্যান্ডেল নির্মাণ ও অতিথিদের বরণ করার শেষ প্রস্তুতি সফরের মূল কর্মসূচি:সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সফরটি পরিচালিত হবে:সন্ধ্যা ৬:০০টা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করবেন। মণ্ডপে তাঁর প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থানের কথা রয়েছে।সাংগঠনিক সভা: মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী নগরের র্যাডিসন ব্লু হোটেলে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেবেন।উপস্থিতি: সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পাঁচ নেতা, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।প্রস্থান: সভা শেষে রাতেই শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে তাঁর ঢাকা রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এ ধরনের সভা তৃণমূলের সংগঠকদের মূল্যায়ন করার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে।চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয়: প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব (এসআরবি), আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নির্দেশনা ও সুনির্দিষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রশাসন এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ও র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মণ্ডপগুলোতে নিয়মিত টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, শুধু চট্টগ্রাম মহানগরেই প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।অনুদান ও উপহার বিতরণ:দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১০ হাজার শাড়ি ও লুঙ্গি জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন মন্দির ও পূজা উদ্যাপন কমিটির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর জে এম সেন হল মাঠে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে এসব উপহারসামগ্রী ও আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করেন।সম্প্রীতির বার্তা: বন্দরনগরীর পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক আগমন সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সঞ্চার করেছে। চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মণ্ডপে এসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের বিষয়।স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং চট্টগ্রামসহ পুরো দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা আরও জোরালো করবে।