নিজস্ব প্রতিবেদক।।নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্যাতন ও হয়রানিমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেইভ আওয়ার উইমেন বাংলাদেশ’। ২০১৬ সালে রানা আবদুল্লাহর হাত ধরে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি মাঠপর্যায় ও অনলাইনে নারীদের সুরক্ষায় বহুমুখী পদক্ষেপ পরিচালনা করছে।
সংগঠন সূত্র জানায়, ইভটিজিং, যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইল প্রতিরোধে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা রাখছে উদ্যোগটি। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও নোয়াখালী—এই ছয়টি জেলায় তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ৪০০ স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে গঠিত টিমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক নারী জরুরি সহায়তার আওতায় এসেছেন।মাঠপর্যায়ে তাদের কাজের মধ্যে অন্যতম হলো জনপরিসর ও গণপরিবহনে হয়রানি বন্ধে টহল জোরদার করা। এছাড়া স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং শিশুদের ‘গুড টাচ ও ব্যাড টাচ’ (ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ) চিনতে শেখাতে বিশেষ সেশন পরিচালনা করছেন সংগঠনের কর্মীরা। অনলাইন মাধ্যমেও নারী নির্যাতন রোধে প্রচারণা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছে উদ্যোগটি।
সহায়তার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে সংগঠনটি জানায়, নির্যাতনের শিকার কোনো নারী তাদের সাথে যোগাযোগ করলে শুরুতেই প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করা হয়। ঘটনার ধরন ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আইনি, পরামর্শমূলক কিংবা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান নিশ্চিত করা হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আয়োজকেরা জানান, বর্তমানে ছয়টি জেলায় কাজ চললেও দেশের ৬৪টি জেলাতেই স্বেচ্ছাসেবীদের সুসংগঠিত টিম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নারীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ব্যাপ্ত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।একটি সচেতন ও সম্মিলিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নারীদের জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সম্মানজনক সমাজ গড়ে তোলাই ‘সেইভ আওয়ার উইমেন বাংলাদেশ’-এর মূল লক্ষ্য বলে জানান এর উদ্যোক্তারা।