নিজস্ব প্রতিবেদক
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। হিসাবমতে প্রায় ৮ মাস পার হয়ে গেল এই সংসদের। এখন আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন সারাদেশেই বইছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী হাওয়া। সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তারা ২১ জানুয়ারী থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করারও একটি প্রাথমিক ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অর্থাৎ প্রার্থীরাও ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ব্যানার, পোস্টার, নানা রকম শুভেচ্ছা বাণী দিয়ে প্রচারণা শুরু করছে প্রার্থীরা। অনেক প্রার্থীই ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলছে প্রচারণার। কেউ কেউ নানামুখী উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিফলেট ও ফেস্টুন বানিয়ে তা প্রচার করছে নানাভাবে। কেউবা হাট বাজারে জনগণের সাথে দেখা করে আবার কেউ কেউ উঠান বৈঠক, পথসভার মাধ্যমে জনসংযোগ করে জানান দিচ্ছে নিজ নিজ ভোটারদের মাঝে। কেউ কেউ নির্বাচন উপলক্ষে মসজিদ মাদ্রাসাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন ও বিভিন্ন জায়গায় দান অনুদান দেয়া শুরু করেছেন। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ হবে অর্থাৎ কোন দলীয় প্রতিক থাকবে না জেনেও প্রার্থীরা দলের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীরা পুরনো বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনের সাথে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেছেন। জানাচ্ছেন শুভেচ্ছা এবং চাইছেন নানাবিধ সহযোগীতা।স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা আমাদের লক্ষনীয়:মনোনয়ন: পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোন দলীয় মনোনয়ন না থাকায় সরকারী সিদ্ধান্ত থাকলেও সারাদেশে প্রার্থীরা স্থানীয় দলীয় সংসদ সদস্য, জেলা উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক নেতাদের ভালবাসা ও সানিধ্য পাওয়ার জন্য। কেউ কেউ নেতাদের নগদ অর্থ ও উপহার দিয়ে আস্থা ও সমর্থন অর্জনের চেষ্ঠা করছে। কেউ কেউ স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং নেতাদের পাশে দাড়িয়ে জানান দিতে চাচ্ছে তাদের নির্বাচনের বিষয়টি। গ্রামাঞ্চলে গেলে দেখা যাবে হাট বাজার, লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গাছে গাছে ব্যানার ফেস্টুনে ভরা এবং আলোচনার মূল বিষয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন।যে যে প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হবে:সিটি কর্পোরেশন: ইতিমধ্যে অনেক সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঐ সব সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর ইতিমধ্যে কৌশলভিত্তিক প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। নির্বাচনের দিনক্ষন ঠিক না হলেও প্রার্থীরা রয়েছেন প্রচারণায় সরব।পৌরসভাঃ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী শিগ্রই অনুষ্ঠিত হবে দেশের সবকটি পৌরসভার নির্বাচন। বর্তমানে পৌরসভাগুলো চলছে প্রশাসক দিয়ে।ইউনিয়ন পরিষদ: অনেক আগেই ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সূত্র মোতাবেক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথমেই অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সেই অনুযায়ী চলছে সকল ধরণের প্রস্তুতি এবং প্রার্থীদের প্রচারণা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করছে এবারের নির্বাচন কি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে, না গত ১৭ বছরের ন্যায় কেন্দ্র দখল করে নিয়ে ভোট করা হবে।দেশবাসী অপেক্ষায় রয়েছে কেমন হবে এ নির্বাচন। তবে অনেকের ধারণা পুর্বেরমত নয় নতুন বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।কেমন জনপ্রতিনিধি চায় জনগণ: কেমন জনপ্রতিনিধি চায় এবার জনগণ এ নিয়েও চলছে নানা কথাবার্তা। বিভিন্ন নির্বাচনী ও এলাকা ঘুড়ে দেখা গেছে সাধারণ জনগণ চায় দুর্নীতিমুক্ত।