মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পুঠিয়ায় প্রথম স্ত্রীর কাছে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোররাতে পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর থানাধীন মাহিন্দ্রা বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের পরিচয়।আহত স্বামী: মো. আশরাফুল ইসলাম (৩৫), পেশায় একজন বাস হেলপার। তিনি পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা।অভিযুক্ত স্ত্রী: রেখা খাতুন, আশরাফুলের দ্বিতীয় স্ত্রী। ঘটনার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে।ঘটনার নেপথ্য ও পটভূমি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুল ইসলাম প্রথম স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে রেখেই দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা খাতুনকে নিয়ে মাহিন্দ্রা বাজার এলাকার ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তবে মাঝেমধ্যেই তিনি প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাঁর কাছে যাতায়াত করতেন। প্রথম স্ত্রীর কাছে স্বামীর এই যাতায়াত মেনে নিতে পারেননি দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা খাতুন। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধ ও তীব্র কলহ চলে আসছিল।যেভাবে ঘটে নৃশংস ঘটনা
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর কাছে যাওয়ার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বিরোধের জের ধরে শনিবার ভোররাতে স্বামী আশরাফুল যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক সেই সুযোগ নেন দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা খাতুন। অত্যন্ত সুকৌশলে একটি ধারালো ব্লেড দিয়ে তিনি ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। আশরাফুলের চিৎকারে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার তীব্রতা টের পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং মারাত্মক আহত আশরাফুল ইসলামকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ৫ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরালেও তাঁর সার্বিক দেখভালের জন্য প্রথম স্ত্রী তাঁর পাশে রয়েছেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। একই সঙ্গে, অভিযুক্ত দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা খাতুনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ মর্মে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এই মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক এই ধরনের বিরোধ ও হিংসাত্মক পরিণতি রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন স্থানীয় সচেতন মহল।