জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পার হতে না হতেই আবারও শুরু হয়েছে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও ডোবা ভরাটের কাজ। প্রশাসনের অভিযানের দিনই বিকেলে পুনরায় ড্রেজার চালু করায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ৮ অক্টোবর দুপুরে উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের বাঁশ বাজার বোর্ড অফিস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার দায়ে ‘বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’-এ স্থানীয় যুবদলের নেতা আল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা করেন নবীনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সুলতানা। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায়ও করা হয়। এছাড়া একই দিনে ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে অপর একটি অভিযানে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ২টি ড্রেজার ও বিপুল পরিমাণ পাইপ ধ্বংস করা হয়। তবে দুপুরের এই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেল ৫টার দিকে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের মডেল মসজিদ সংলগ্ন প্রধান রাস্তার পাশে আবারও অবৈধ ড্রেজার সচল করতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, জরিমানা দিয়ে এসিল্যান্ড চলে যাওয়ার পরপরই অপরাধী চক্রটি আরও শক্তিশালী ‘বোমা মেশিন’ ড্রেজার বসিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে কয়েকটি ডোবা ভরাট করার কাজ শুরু করে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুপুরে অভিযানের সময় যদি আল আমিনের এই অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও পাইপগুলো শুধু জরিমানা না করে ঘটনাস্থলেই পুরোপুরি ধ্বংস বা অকেজো করে দেওয়া হতো, তাহলে আজ সন্ধ্যার পর তারা আর এই কার্যক্রম চালানোর সাহস পেত না। ড্রেজার সচল থাকায় প্রশাসনের গাড়ি চলে যাওয়ার পরপরই তারা আবারও পরিবেশ ধংসে মেতে উঠেছে। ফসলি জমি ও সরকারি রাস্তা রক্ষায় এই স্পটে অবিলম্বে পুনরায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ।