সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ৬নং রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কুবাজপুর আহমদাবাদ গ্রামের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট সমাজসেবক, মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরী বিশাল সম্পত্তির অধিকারী। মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ, এলাকায় উত্তেজনা, যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।যেমন বাগানবাড়ি ফিসারি, কন্ট্রোলরুম ফিসারি, গফাইখালি ডহর, রাজনখালি ডহর, বালুচর ফিসারি ও ফসলি জমি সহ এক বিশাল সম্পত্তির অধিকারী। মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর ঔরসে ৫ ছেলে ৩ মেয়ে যেমন শাহ ছুবা চৌধুরী, শাহ সাহাব চৌধুরী, শাহ নেওয়াজ চৌধুরী, ফেরদৌসী চৌধুরী, শাহ কুতুব চৌধুরী, আলীমা বেগম চৌধুরী, ফাতেমা চৌধুরী, শাহ ইদুজ্জোহা চৌধুরী এবং একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী ছেলে ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন, তার নাম রাখা হয়েছে মোঃ আব্দুল্লাহ। শাহ নুর মিয়া চৌধুরী পালক পুত্র আব্দুল্লাহকে লালন পালন করে বিয়ে-শাদী দেন এবং পরিবারের সদস্য হিসাবে আব্দুল্লাহকে সম্পত্তির মালিকানার অগ্রাধিকারও দেওয়া হয়। শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর ছেলে মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। শাহ নুর মিয়া চৌধুরী ওরফে নুর চৌধুরী গত ২২ জানুয়ারি ১৯৯৮ ইং মৃত্যুবরণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর এই বিশাল সহায় সম্পত্তি দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ সহ দেশে একাই বিশাল সম্পত্তি ভোগ করেন তাহার তৃতীয় পুত্র শাহ নেওয়াজ চৌধুরী। শাহ নেওয়াজ চৌধুরী জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রামের ইয়াওর মিয়া, খলিল মিয়া গংদের নিকট কয়েকটি জলমহাল লিজ দিয়েছিলেন কিন্তু শাহ নেওয়াজ চৌধুরী হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৬ অক্টোবর ২০২৩ ইং মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর, ইয়াওর মিয়া ও খলিল মিয়া মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর বিশাল সম্পত্তির উপর কুনজর দেয় এবং পুরো সম্পত্তি তাদের দখলে নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করে কিছু অবৈধ কাগজপত্র তৈরি করে রেখেছিল। ছুবা চৌধুরী ও ইদুজ্জোহা চৌধুরী তাদের পিতার রেখে যাওয়া বিশাল সম্পত্তি রক্ষার জন্য বাংলাদেশে ইউসুফ আহমেদকে ম্যানেজার, আফাজ চৌধুরী ও মোঃ এনামুল হক রেজাউল করিমকে সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করেন। তাহারা তিনজনের নেতৃত্বে কুবাজপুর আহমদাবাদ গ্রামের আলাল মিয়া, সাফর মিয়া ও শাহ ছুবা চৌধুরীর চাচাতো ভাই ভাতিজাদের একত্রিত করে খলিল গংদের নিকট থেকে মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর সম্পত্তি উদ্ধার করতে অনেক হামলা-মামলা সহ প্রায় কোটি টাকা খরচ করে অবশেষে ষড়যন্ত্রকারী খলিল গ্যাংদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিশাল সম্পত্তি। এতে ইউসুফ, আফাজ, এনামুল, আলাল, সাফর, রাহিম চৌধুরী সহ আরও অনেকের উপর মামলা হয়। এখনো কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। সম্পত্তি উদ্ধারের পর এক বছর সুশৃঙ্খলভাবে সকলে মিলেমিশে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু আফাজ চৌধুরীর দায়িত্বে অনিয়ম ও চলাফেরায় সন্দেহ হলে আফাজ চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আফাজ চৌধুরীকে কেয়ারটেকারের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণে আফাজ, ছুবা চৌধুরীর পরিবারের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে শুরু করে নতুন এক ষড়যন্ত্র। আফাজ মিয়া সাহাব চৌধুরীকে, একাই বিশাল সম্পত্তির মালিক বানিয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে আয়ত্তে আনে। আফাজ চৌধুরীর কুপ্রস্তাবে রাজি হয়ে সাহাব চৌধুরী আগের পূর্ব শত্রু ইয়াওর, ছাতির ও খলিল গংদের সাথে হাত মিলিয়ে বিশাল বাহিনী তৈরি করে এবং পুরো সম্পত্তি শাহ সাহাব চৌধুরীর অধীনে নিতে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। শাহ সাহাব চৌধুরী বাংলাদেশে আসার পর সুনামগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মহোদয় মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর রেখে যাওয়া বিশাল সম্পত্তি তাহার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, পরিবারের ৭ জন সদস্য তার প্রস্তাবে রাজি হলেও একমাত্র সাহাব চৌধুরী পুলিশ সুপার মহোদয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইউকে চলে যান। পরে বাংলাদেশে তাদের আপন চাচাতো বড় ভাই সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ও লন্ডনে সাহাব চৌধুরীর ১২ জন আত্মীয়-স্বজন মিলে সম্পত্তি বণ্টনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তাদের এই মহৎ উদ্যোগে সকল ভাই বোনরা রাজি হন কিন্তু সাহাব চৌধুরী কোনোভাবেই সম্পত্তি বণ্টনে রাজি নয়। এ বিষয়ে জালাল চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার আপন চাচাতো ভাই ছুবা চৌধুরী ও সাহাব চৌধুরী তাদের সম্পত্তির বিরোধ শেষের স্বার্থে লন্ডন-বাংলাদেশের আমাদের আত্মীয়স্বজনদেরকে সাথে নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছি বিষয়টি মীমাংসার জন্য কিন্তু সকল ভাই বোন আমাদের সাথে একমত পোষণ করলেও সাহাব চৌধুরীকে কোনভাবে মানাতে পারিনি সে শর্ত দেয় তার শর্তের কারণে আজও বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। ছুবা চৌধুরীর চাচাতো ভাই ফারকাছ মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আমি ছিলাম এসপি স্যার সাহাব চৌধুরীকে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য অনুরোধ করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আতাউর রহমান মিলাদ মিয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এ বিষয়টি মীমাংসার জন্য অনেকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি, পরিবারের সকল সদস্য সম্পত্তি বণ্টন করতে চাইলেও সাহাব চৌধুরী সম্পত্তি বণ্টনের জন্য যে কন্ডিশন দেন সেই কন্ডিশনের কারণে বিষয়টি মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ফোনে মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর ছেলে-মেয়েদের সাথে যোগাযোগ করা হলে ইদুজ্জোহা চৌধুরী, মৃত কুতুব চৌধুরীর ছেলে ইফতিকার জামান চৌধুরী, আলিমা চৌধুরী, ফাতেমা চৌধুরী সকলের পক্ষ থেকে শাহ ছুবা চৌধুরী এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা ৫ ভাই ৩ বোন সবাই লন্ডনে বসবাস করি, আমার দুই ভাই মৃত্যুবরণ করেন। আমাদের বাবার রেখে যাওয়া বিশাল সম্পত্তি শাহ নেওয়াজ চৌধুরী দেশে দীর্ঘদিন দেখাশোনা করে। হঠাৎ সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আমি ও আমরা ভাই বোনরা একত্রিত হয়ে আমাদের পিতার সম্পত্তি ইসলামী ও সরকারি আইন মোতাবেক ভাগবাটোয়ারা করে নিতে চাই। তবে আমার ভাই সাহাব সম্পত্তি বণ্টন করতে চায় না। তার উদ্দেশ্য একাই বিশাল সম্পত্তি ভোগদখল করবে। আমাদের দুই ভাইকে ২০ কেয়ার জমি এক্সট্রা দিতে রাজি