আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম ও একসময়ের আলোচিত এলাকা জঙ্গল সলিমপুরকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত জনপদে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এখানকার বাসিন্দাদেরও সব ধরনের নাগরিক সুবিধার আওতায় আনা হবে।রোববার (৪ নভেম্বর) জঙ্গল সলিমপুরের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আলীনগর প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন।এলাকার যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয়টি নতুন সড়কের নির্মাণকাজ চলছে, যার ২৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।জঙ্গল সলিমপুরে ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে একটি বিজিবি ক্যাম্পের নির্মাণকাজও চলমান।পরিদর্শনের সময় আলীনগর স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তী মাসের বেতনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি প্রয়োজন সাপেক্ষে বিদ্যালয়টি সরকারিভাবে অধিগ্রহণেরও প্রস্তাব দেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ১০০টি স্কুলব্যাগ, ২০০টি ফলদ গাছের চারা, বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রী (ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন) এবং চকলেট বিতরণ করা হয়।জেলা প্রশাসক জানান, একসময়ের ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ বা নিয়ন্ত্রণহীন হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে এখন স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানকার উন্নয়ন ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে একশ্রেণির মানুষ ‘মিথ্যা প্রপাগান্ডা’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এলাকার শিশুরা এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্কুলে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।