আব্দুল্লাহ আল মারুফ, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা।
মানুষের প্রত্যাশা ও সময়ের মূল্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি সেবার ধরন বদলানোর তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রতিদিনের কাজ সেদিনই শেষ করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পবিত্র দায়িত্ব।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘যেই চেয়ারে আপনি বসেছেন, তা মানুষের সেবা করার জন্যই। আজকের নির্ধারিত কাজ আজ শেষ না করলে সেবাগ্রহীতাদের চাহিদা অপূর্ণ থেকে যায়। একই কাজের জন্য বারবার সরকারি দপ্তরে আসার মতো পর্যাপ্ত সময় আজকের মানুষের হাতে নেই।’সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কর্মজীবন শেষে কেউ বদনাম নিয়ে বিদায় নিতে চান না। জনআস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে হলে প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট সময়ে সেবা নিশ্চিত করা। এ সময় তিনি প্রতিদিন নিজ কাজের আত্মমূল্যায়ন করার ওপর জোর দেন এবং বলেন, ‘নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে—দায়িত্ব পালনে আমি শতভাগ দিতে পেরেছি কি না।বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির যুগে কোনো পেশা বা ব্যক্তি নিজেকে অপরিহার্য ভাবতে পারে না। সম্প্রতি চীন সফরের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি জানান, রোবটের মাধ্যমে হোটেলকক্ষে সেবা পাওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে ভবিষ্যতে কাজের ধরন আমূল বদলে যাবে। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে দক্ষতা ও মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, উন্নত রাষ্ট্র গঠনে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের মানসিকতারও রূপান্তর প্রয়োজন। মানুষ হিসেবে দেশ, সমাজ ও পরিবেশের জন্য নিজের অবদান কী-সেই আত্মসমালোচনা করার সময় এসেছে।সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিগুলোর বিষয়ে তিনি কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমগুলো ঊর্ধ্বতন মহলের চাপে নয়, বরং নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি টাকার সদ্ব্যবহার ও অপচয় রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেন তিনি।সভা শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক সুস্থতার প্রতি নজর রাখার পরামর্শ দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসন এখনো সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। স্বচ্ছতা, সময়ানুবর্তিতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এই আস্থার পরিধি আরও সুদৃঢ় করতে হবে।