আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেবের বিরুদ্ধে এক নাগরিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, মুঠোফোনে ‘তুমি’ সম্বোধন এবং নির্ধারিত স্থান ও সময়ের বাইরে থানায় ডেকে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জনকল্যাণ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়-সংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্ত পরিচালনা করতে গিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ পারভেজের দাবি, তদন্তের সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাঁকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এই অভিযোগগুলোকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীর দাবি, তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের সময় তাঁকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করা হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি সম্মানসূচকভাবে ‘বড় ভাই’ সম্বোধন করলে আশীষ বরণ দেব প্রতিবাদ করে বলেন, “বড় ভাই কেন বলছো, আমি তোমার ভাই নাকি? নাগরিক থেকে আমাকে স্যার ডাকতে হবে।
বিলম্বিত নোটিশ: অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের একটি নোটিশে ১৩ আগস্ট হাজির হতে বলা হলেও তাঁকে তা জানানো হয় নির্ধারিত তারিখ পার হওয়ার তিন দিন পর, অর্থাৎ ১৬ আগস্ট সকালে। এ ক্ষেত্রে নোটিশের ডিসপ্যাচ রেজিস্টার ও গ্রহণের প্রমাণ যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত অফিসিয়াল স্থানে না ডেকে ১৬ আগস্ট মোহাম্মদ পারভেজকে সাতকানিয়া থানায় তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। পরে অবশ্য তাঁকে উপজেলা অফিসে গিয়ে লিখিত আবেদন জমা দিতে বলা হয়।আমি আজকে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর উপপরিচালক বারবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেব প্রতিবেদকে বলেন,সাবেক ইউএনও মহোদয় আমাকে তদন্ত রিপোর্টের জন্য নির্দেশ দিলে আমি দুই পক্ষের সাথে কথা বলে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট দিয়েছি। সেই সাথে বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী স্কুলের শিক্ষক সেলিম রেজাকে আমরা কঠোরভাবে সতর্ক করেছি। আর বাদী ফোনে আমাকে বারবার ‘ভাই’ সম্বোধন করায় আমি জানতে চেয়েছি যে তিনি কেন বারবার ভাই ডাকছেন। আমার তদন্তের রিপোর্টে যদি বাদীপক্ষ নারাজ থাকে, তবে তা অবশ্যই তদন্ত রিপোর্ট দেখে আপিল করতে পারবে। আমার বিরুদ্ধে দেওয়া তাঁর অভিযোগ একেবারেই অসত্য।
একজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নাগরিকদের নির্দিষ্টভাবে ‘স্যার’ সম্বোধন করা কি বাধ্যতামূলক-এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য, তিনি কোনো কর্মকর্তাকে অসম্মান করতে চাননি, বরং পেশাগত ও পারস্পরিক সৌজন্যমূলক আচরণ প্রত্যাশা করেছিলেন।
উপ-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, চট্টগ্রাম অঞ্চল, চট্টগ্রাম মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী বলেন,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি চাকরি আইন এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী, সেবাগ্রহীতা নাগরিকদের সঙ্গে পেশাদারিত্ব, শিষ্টাচার ও সর্বোচ্চ সৌজন্যমূলক আচরণ করা প্রতিটি কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব। সাতকানিয়ার ঘটনাটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে নাগরিককে ‘তুমি’ সম্বোধন করা কিংবা সেবা নিতে গিয়ে অসৌজন্যমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী।
এছাড়া নির্ধারিত সময়ের তিন দিন পর নোটিশ দেওয়া এবং কার্যালয়ের পরিবর্তে থানায় ডেকে পাঠানোর বিষয়ে কোনো যৌক্তিক বা দাপ্তরিক আইনি ভিত্তি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রচলিত প্রশাসনিক বিধি মোতাবেক যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।