বান্দরবান প্রতিনিধি >>> সরকারি আদেশ অমান্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অপমানজনক ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে কর বিভাগের প্রধান সহকারী মো. নূৎফর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।চট্টগ্রাম দক্ষিণ কর অঞ্চল-২-এর কর কমিশনার সাধন কুমার রায়ের স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।৩০ আগস্ট ২০২৬ তাকে সাময়িক বরখাস্তের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।আদেশের নথি নম্বর কঅ-২(চট্র)/সংস্থাপন/পিএফ/২০২৬/২৩৬ (১-১০)। সংশ্লিষ্ট আদেশ সূত্রে জানা যায়, মো. নূৎফর রহমান বর্তমানে কর অঞ্চল-২, চট্টগ্রামের সার্কেল-৪৩ (বোয়ালখালী)-এর প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি সার্কেল-২৫ (বান্দরবান)-এ দায়িত্ব পালন করেন।আদেশে উল্লেখ করা হয়, বান্দরবান সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে গত ২৮ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কর কমিশনার মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমানের আইনসঙ্গত আদেশ অমান্য করার অভিযোগ ওঠে নূৎফর রহমানের বিরুদ্ধে। একই সময়ে সার্কেলে কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি অপমানজনক ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়। কর্তৃপক্ষের আদেশে বলা হয়েছে, তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী তার লিখিত জবাবে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসঙ্গত নির্দেশ অমান্য করা এবং কর্মস্থলে অসৌজন্যমূলক আচরণ সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশের জন্য গুরুতর বিষয়। বিশেষ করে একজন সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশনা পালনের প্রত্যাশা থাকে।এ ধরনের আচরণ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ২(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৯(১) অনুযায়ী মো. নূৎফর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।আদেশ অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের ব্যবস্থা সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ‘আইনসঙ্গত নির্দেশনা মানা এবং কর্মস্থলে পেশাগত আচরণ বজায় রাখা’—এই দুই নীতির গুরুত্বকে সামনে আনে। তবে সাময়িক বরখাস্ত নিজেই চূড়ান্ত শাস্তি নয়; সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক বা বিভাগীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে পারে।