নিজস্ব প্রতিবেদক।। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ৩৬ নং উত্তর এওচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) শ্রীমতি মুক্তি রানি ধরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, আর্থিক অস্বচ্ছতা, সরকারি ল্যাপটপ বাসায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালক (প্রশাসন) জেলা শিক্ষা অফিসার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অত্র এলাকার মোহাম্মদ পারভেজ।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা খরচে শিক্ষা প্রদানের নিয়ম থাকলেও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও অন্যান্য খাতের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওয়াল্টন ল্যাপটপ নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে না রেখে নিজের বাসায় সুরক্ষিত রাখার কথা স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক।
স্লিপ (SLIP) ফান্ড ও অন্যান্য খাতের সরকারি বরাদ্দের ব্যবহার নিয়ে আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রশ্নপত্র বাবদ ৭,৪৫০ টাকা এবং শিক্ষা কর্মকর্তা আপ্যায়ন বাবদ ২,৮৫০ টাকা ব্যয়ের হিসাব এবং স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আলাদা কক্ষ তৈরীর জন্য সম্প্রতি ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দের কাজে অনিয়ম করে টাকা আত্মসাৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খাদ্যসামগ্রী আনানো, বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে অবহেলা এবং ধারাবাহিক শিক্ষার্থী হ্রাসের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এলাকার সচেতন নাগরিক শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন।প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বে শিক্ষার্থী সংখ্যা সাড়ে তিনশ ছাড়িয়ে গেলেও, তাঁর বিগত সাত বছরের দায়িত্ব পালনকালে তা কমে প্রায় দেড়শ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্লাসের বেঞ্চ পরিষ্কার ও ফ্লোর ঝাড়ু দেওয়ার মতো কাজ করানোর বিষয়টি অভিভাবকদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এর পাশাপাশি, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আসা বিভিন্ন সরকারি অর্থ শিক্ষা অফিসে ভুয়া ভাউচার উপস্থাপন করে নিয়মিত আত্মসাৎ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত বলে দাবি করেন তিনি। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের তহবিলের প্রতিটি অর্থের সঠিক হিসাব ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসীর সামনে উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুক্তি রানি ধর তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্কুল ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে দুটি ল্যাপটপ আমি বাড়িতে রেখে দিয়েছি। বন্যার কারণে ২ বছরের হিসাবের কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে তাই তা প্রদর্শন করা সম্ভব না, এছাড়া স্টুডেন্টদের পরীক্ষার ফি এবং স্লিপের টাকা আমরা স্কুলের উন্নয়নেই খরচ করে থাকি।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুল ইসলাম জানান,সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার নামে কোনো ধরনের ফি নেওয়ার বিধান নেই। একইভাবে ল্যাপটপ বাড়িতে রাখারও কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহাম্মদ বলেন,সাতকানিয়ার এই বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় বিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং বিদ্যালয়গুলোতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।