মোহাম্মদ হোসাইন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি >>> ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬। শহরের পাবলিক হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ আয়োজন। মেলায় বিভিন্ন নার্সারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। দর্শনার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রজাতির চারা সংগ্রহ করতে পারছেন।আয়োজকেরা জানান, কক্সবাজার একটি উপকূলীয় ও পর্যটননির্ভর জেলা হওয়ায় এখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষা, বায়ুদূষণ কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মেলায় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের পাশাপাশি ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারাও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন বয়সী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে মেলাকে ঘিরে আগ্রহ দেখা গেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির ধরন বিবেচনায় উপযোগী দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সবুজায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।উল্লেখ্য, জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ আয়োজনের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত ৯ জুলাই জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়।কক্সবাজারেও এ আয়োজনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়বে এবং বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং রোপণ করা গাছের পরিচর্যা করার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।