ইমরান হাশমি অভিনীত ‘আওরাপন ২’ বক্স অফিসে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছে। ১৪ আগস্ট মুক্তির পর থেকে সিনেমাটি দর্শকদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে এসে এর আয়ের গতি আরও বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ২০০ কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে ছবিটি। দশম দিনের হিসাব অনুযায়ী, এই মাইলফলক থেকে মাত্র ৭ কোটি ২০ লাখ রুপি দূরে দাঁড়িয়ে আছে সিনেমাটি।
বক্স অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় রোববার ভারতে ছবিটি ৮ কোটি ৭৫ লাখ রুপি নেট আয় করেছে। এদিন ১৩ হাজার ৬৩২টি প্রদর্শনীতে গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল প্রায় ২১ শতাংশ। সব মিলিয়ে ভারতে ছবিটির মোট নেট আয় দাঁড়িয়েছে ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ রুপি এবং গ্রস আয় ১৬২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও দাপট অব্যাহত রেখে দশম দিনে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে, যা বিদেশের বাজারে মোট গ্রস আয়কে ৩০ কোটি ৩০ লাখ রুপিতে উন্নীত করেছে। ভারত ও বিদেশের সম্মিলিত বিশ্বব্যাপী গ্রস সংগ্রহ এখন ১৯২ কোটি ৮০ লাখ রুপি।
সিনেমাটির আয়ের গতিপথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও পরে তা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত শুক্রবার ৯ হাজার ৮৫৮টি প্রদর্শনী থেকে ৫ কোটি ৭৫ লাখ রুপি নেট আয় হয়েছিল। তবে শনিবারই আয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ২৫ লাখ রুপি, যা শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ওইদিন সন্ধ্যা ও রাতের প্রদর্শনীগুলোতে দর্শক উপস্থিতি ছিল প্রায় ৩৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
মুক্তির সময় সানি দেওলের ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়লেও ‘আওরাপন ২’ এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের হিন্দি সিনেমাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সফল ছবি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নিতিন কাক্কর পরিচালিত এই ছবিটি ২০০৭ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘আওরাপন’-এর সিক্যুয়েল। প্রথম ছবির আবেগ, গান ও ইমরান হাশমির অভিনয় যে নস্টালজিয়া তৈরি করেছিল, তা এই ছবির সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ ভাটের প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমায় ইমরান হাশমির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিশা পাটানি ও শাবানা আজমি। এছাড়া পুরান গাব্বি, সুভিন্দর ভিকি, বিজয়ন্ত কোহলি, অতুল কুমার, মাইরা শিভান, অনিরুদ্ধ রাওয়াল, জাগক্রিড কামডি, বরুণ চন্দা, রুখসার রহমান ও রিচা জৈন বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন। বিশেষ চরিত্রে শ্রিয়া শরণ ও শাদ রন্ধাওয়াকে যথাক্রমে আলিয়া হামিদ ও কবিরের ভূমিকায় দেখা গেছে, যারা শিবমের অলীক উপস্থিতির অংশ হিসেবে পর্দায় এসেছেন।
ছবিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও ইমরান হাশমির অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন সমালোচকরা। যদিও প্রথমার্ধের ধীরগতি, অনুমানযোগ্য মোড় বা খলনায়কের দুর্বলতা নিয়ে কিছু আপত্তি রয়েছে, তবুও প্রথম ছবির শিবম পণ্ডিতের উত্তরাধিকারকে নতুন আবেগের সাথে মিলিয়ে দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে ছবিটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেদিন ছবিটির সার্বিক দর্শক উপস্থিতি ছিল ১৮ শতাংশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষে ভারতে ছবিটির নেট আয় ছিল ১১৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরু থেকেই আয় বাড়তে থাকায় এখন ২০০ কোটির বৈশ্বিক মাইলফলক নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছবিটি নিয়ে সমালোচনা অবশ্য একেবারে একমুখী নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও ধীরগতির প্রথমার্ধ, অনুমানযোগ্য মোড় ও দুর্বল খলনায়ক নিয়ে আপত্তি উঠেছে।
সূত্র: প্রথম আলো