সোমবার সকালে দিল্লি থেকে পাটনাগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। সকাল ৭টা ৪৩ থেকে ৭টা ৪৪ মিনিটের দিকে পাটনার জয়প্রকাশ নারায়ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ফ্লাইট এআই ১৭৪১-এর ইঞ্জিনে পাখির ধাক্কা লাগে। তবে পাইলটের তাৎক্ষণিক সতর্কতা ও দক্ষতায় ১৬৪ জন যাত্রী অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন।
পাইলট যখন বিমানের ডান পাশের ইঞ্জিন বা টারবাইনে পাখির আঘাতের বিষয়টি বুঝতে পারেন, তখনই তিনি দ্রুত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। এই সংকেত পাওয়ার পরপরই রানওয়ের পাশে দমকল বাহিনী ও জরুরি সেবার কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বিমানটি রানওয়েতে অবতরণ করে। অবতরণের পর প্রকৌশলীরা বিমানটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। এতে পাখির ধাক্কার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও ইঞ্জিনে বড় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর একই উড়োজাহাজটি এআই ১৮৫২ ফ্লাইট হিসেবে পাটনা থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করে। ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি সকাল ১০টা ৯ মিনিটে দিল্লির পথে রওনা হয়। নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে উড্ডয়নের কথা থাকলেও, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষার কারণে প্রায় ৭৯ মিনিট দেরিতে বিমানটি ছাড়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় পাটনা বিমানবন্দরে স্বাভাবিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে এটি দ্বিতীয়বার পাখির ধাক্কার ঘটনা। এর আগে ১৭ আগস্ট একই রুটে এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকটি বিমান অনুরূপ পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল। ওই বিমানটি দুই দিন পরিষেবার বাইরে রেখে মেরামত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, বর্ষাকালে রানওয়ের আশপাশে ঘাস ও পোকামাকড় বাড়ায় পাখির আনাগোনা বৃদ্ধি পায়, যা ‘বার্ড স্ট্রাইক’-এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত নজরদারি, বার্ড চেজার ও আতশবাজির মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এমনকি ঘটনার আগের দিন রোববারও রানওয়ের কাছে প্রায় দেড় কেজি ওজনের একটি বাদুড়ের দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিমানে থাকা ১৬৪ জন যাত্রীর কেউ আহত হননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অবতরণের পর উড়োজাহাজটির বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘটনার পর রানওয়ে ও আশপাশের এলাকাও পরীক্ষা করে দেখা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যাত্রীরা নিরাপদে বিমান থেকে নেমে গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর সেটিকে পুনরায় উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৃষ্টির কারণে রানওয়ের পাশে ঘাস ও পোকামাকড়ের সংখ্যা বাড়লে সেখানে পাখি আকৃষ্ট হয়।
সূত্র: এভিয়েশন নিউজ বিডি