আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক।। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন, গুরুতর শারীরিক আঘাত এবং দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার তৎকালীন দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের সিনিয়র দায়রা বিশেষ জজ আদালতে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি একটি বিশেষ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. পারভেজ সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর এওচিয়া এলাকার বাসিন্দা।অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন-সাতকানিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তারেক ইমরোজ (বর্তমানে সিলেট আরআরএফে কর্মরত) ও এসআই ফজলুল হক (ফজলু)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের মে মাসে সাতকানিয়া থানার তৎকালীন এসআই সৈয়দ তারেক ইমরোজ ও এসআই ফজলুলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য বাদী মো. পারভেজকে থানায় তুলে নিয়ে যান। এরপর ২৯ মে পর্যন্ত তাঁকে থানায় আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
বাদী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, নির্যাতনের একপর্যায়ে তাঁর দুই হাতে গুরুতর জখম করা হয় এবং বাম কানে আঘাত করা হলে তাঁর শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। পুলিশি নির্যাতনে তিনি শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রায় দুই মাস তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র, মেডিকেল রিপোর্ট এবং হাসপাতালের ভর্তি ও ছাড়পত্রসহ সব দালিলিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি কঠোর আইন ও ধারা উল্লেখ করা হয়েছে: নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারা।
১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-এর ৫(২) ধারা।দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১০৯, ১৬৬, ২২০, ৩৪২, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারা।
আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ২০১৪ সালের ওই ঘটনায় আমি অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আমার কাছে সব ধরনের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও প্রমাণ রয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় আমি ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।
এদিকে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তৎকালীন এসআই ফজলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।