মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম >>> ইঞ্জিন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে গতকাল শনিবার প্রায় সব ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। একেকটি ট্রেন এক থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে ছাড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই একাধিক ট্রেনের সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘসময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয় তাদের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা।সোনার বাংলা, বিজয় এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেসের একাধিক যাত্রী ট্রেন বিলম্বে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে কক্সবাজারগামী প্রতিটি ট্রেন দুই ঘণ্টার বেশি বিলম্বে চলাচল করেছে বলে জানা গেছে।সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের কয়েকজন যাত্রী জানান, ট্রেন ছাড়ার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে তারা স্টেশনে আসেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেন ছাড়েনি। তারা বলেন, ঢাকাথেকেও সোনার বাংলা প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বে চট্টগ্রামে এসেছে। এরপর চট্টগ্রাম থেকেও ট্রেনটি ছাড়তে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, ইঞ্জিন সংকটের কারণে শনিবার বেশ কয়েকটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে। সোনার বাংলা, বিজয় এক্সপ্রেস, সাগরিকাসহ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি। একই কারণে কিছু ট্রেন চট্টগ্রামে পৌঁছাতেও বিলম্ব হয়েছে।বিজয় এক্সপ্রেসের যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় স্টেশনে এসে জানতে পারেন ট্রেন বিলম্ব হবে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেও ট্রেনের দেখা মেলেনি। এত বিপুলসংখ্যক যাত্রীর একসঙ্গে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি স্টেশন এলাকায় ভালো মানের খাবারের হোটেল না থাকায় দীর্ঘ অপেক্ষায় যাত্রীদের আরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।আরেক যাত্রী শোভন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে প্রায়ই ট্রেন বিলম্ব হয়। নিয়মিত ঢাকা-সিলেট ও ময়মনসিংহ-জামালপুরসহ বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকটের বিষয়টি থাকলেও তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।রেলওয়ের জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন বিজয় এক্সপ্রেস বর্তমানে চট্টগ্রাম-জামালপুর রুটে চলাচল করছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে জামালপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও গতকাল ট্রেনটি প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে বলে যাত্রীরা জানান। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ট্রেনটি ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুরে যায় এবং একই পথে চট্টগ্রামে ফিরে আসে।অন্যদিকে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চলাচল করে সাগরিকা এক্সপ্রেস। ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে চাঁদপুরে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা। পরে চাঁদপুর থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় রয়েছে। কিন্তু ইঞ্জিন সংকটের কারণে গতকাল এ ট্রেনের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।ইঞ্জিন সংকটের কারণে বারবার ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করতে না পারায় যাত্রীদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।