গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরানো, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে কাতার ও মিশর। সম্প্রতি মিশরের আলামিনে অনুষ্ঠিত কাতার-মিশর যৌথ কমিটির সপ্তম বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চারটি নতুন সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় মিশরের সোহাগ অঞ্চলে কাতার সরকারের আর্থিক অনুদানে ‘শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি হাসপাতাল’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে সহায়ক হবে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল-থানি এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি উপস্থিত ছিলেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী জানান, গাজা সংকট নিরসনে বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ চলছে। কাতার, মিশর ও তুরস্কের কূটনৈতিক তৎপরতায় ফিলিস্তিনি পক্ষগুলো শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ ও অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শান্তি আলোচনার পরও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং লেবানন ও সিরিয়ায় আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এখন পুরো পরিস্থিতির সমাধান ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে কাতার মিশরের উত্তর উপকূলে ‘আলম আল-রুম’ প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি লেনদেন সহজতর করতে ‘মিশর-কাতার বিনিয়োগ ফোরাম’ আয়োজন এবং একটি যৌথ ব্যবসায়ী পরিষদ গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাস্টমস সুবিধা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও উভয় দেশ একমত হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কাতারের প্রধানমন্ত্রী জানান, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে কাতার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো দেশের রাজনৈতিক স্বার্থে আন্তর্জাতিক নৌপথকে ব্যবহারের সুযোগ নেই।
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি জোর দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা মিশরের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মিশর কাতারের পাশে থাকবে। ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন, সুদান ও লিবিয়ার অখণ্ডতা রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই দেশ তাদের যৌথ কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি ফিরিয়ে আনা, দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো এবং চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে একসাথে কাজ করার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার ও মিশর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই হাসপাতালটি নির্মিত হলে এলাকার সাধারণ মানুষ অনেক সহজে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাছাড়া সমুদ্রপথে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সে বিষয়ে দুটি দেশ একসাথে কাজ করতে রাজি হয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা