পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির লাল কুর্তি এলাকায় নিজ বাড়ির বাথরুম থেকে হিনা জাভেদ নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সিভিল লাইনস থানার আওতাধীন ওই এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, বাথরুমে হিনার দুই হাত পেছনে বাঁধা ছিল এবং মুখে কাপড় জড়ানো ছিল। এছাড়া তার গলায় একটি তার প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায় এবং মুখ দিয়ে ফেনা ও রক্ত বের হচ্ছিল।
নিহতের পরিবারের দাবি, প্রায় নয় মাস আগে ফয়সাল আসগরের সঙ্গে হিনার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই ফয়সাল তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। হিনার ভাইয়ের অভিযোগ, ফয়সাল আসগর, তার বাবা আসগর আলী এবং গৃহকর্মী জিশান মিলে হিনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, মৃত্যুর আগে তাকে বিষাক্ত কোনো পদার্থ খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য নাটক সাজানো হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ফয়সাল আসগরের প্রথম স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে তালাক দিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর হিনার ভাই সিভিল লাইনস থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ হিনার স্বামী ফয়সাল আসগর ও গৃহকর্মী জিশানকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিনার শ্বশুর আসগর আলী ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের পরিবার দ্রুত আসগর আলীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হিনা জাভেদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা এখন প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। বিষ প্রয়োগ, শারীরিক নির্যাতন এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টার অভিযোগগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হিনার ভাই জানান, তার বোনের শ্বশুর ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর তিনি ওই বাড়িতে যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: যুগান্তর