আহসান হাবিব রুবেল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি >>> বিভিন্ন এলাকা থেকে চারা কিনতে আসছেন ক্রেতারা, বাড়ছে আগ্রহ ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার ৫নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের মন্ডলাদাম গ্রামে আঙুরের চারা উৎপাদন ও নার্সারি করে চমক সৃষ্টি করেছেন উদ্যোক্তা জুয়েল রানা। তার নার্সারিতে বর্তমানে বিভিন্ন জাতের শত শত আঙুরের চারা রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার নার্সারিতে এসে আঙুরের চারা কিনছেন। এতে একদিকে যেমন তার আয় বাড়ছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও নতুন করে আঙুর চাষের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্ডলদাম গ্রামের যুবক জুয়েল রানা ও তার সহযোগীরা আঙুরের চারা উৎপাদন ও চাষে উদ্যোগী হন। প্রথমবার আঙুর চাষে নেমেই তারা ভালো সাফল্য পেয়েছেন। আঙুরের চারা উৎপাদনের পাশাপাশি বাগানে বিভিন্ন জাতের আঙুরের গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করছেন তারা।জুয়েলের বাগানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আঙুরের চারা পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে বাগানে আনুমানিক এক হাজার থেকে দুই হাজার আঙুরের চারা রয়েছে বলে জানান জুয়েল রানা। আরও বেশি চারা উৎপাদনের জন্য নতুন করে জমি প্রস্তুতের কাজও চলছে।জুয়েল রানা জানান, তার নার্সারি থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত আঙুরের চারা বিক্রি হচ্ছে। এতে তার আয়ও ভালো হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার নার্সারিতে এসে চারা কিনছেন এবং আঙুর চাষ সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন।তিনি বলেন, “আমার বাগানে বিভিন্ন জাতের আঙুরের চারা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার থেকে দুই হাজার চারা আছে। আরও চারা উৎপাদনের জন্য জমি প্রস্তুত করছি। প্রতিদিনই অনেক মানুষ চারা কিনতে আসছেন। আঙুরের গাছ খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং উপযুক্ত পরিচর্যা করলে অল্প সময়ের মধ্যেই মাচায় উঠে যায়। ফলও বেশ মিষ্টি।” তার নার্সারিতে বাইকুনুর, সিলভা, অ্যাপোলো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বো, ডিক্সন ও ভ্যালজসহ বিভিন্ন জাতের আঙুরের চারা রয়েছে। এসব জাতের মধ্যে স্থানীয় পরিবেশে চাষের উপযোগী জাতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে চারা উৎপাদন করছেন তিনি।তার লক্ষ্য শুধু নিজের বাগানে আঙুর চাষ করা নয়; বরং ভবিষ্যতে ব্যাপক পরিমাণে আঙুরের চারা উৎপাদন করে রুহিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা। এতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বিকল্প আয়ের পথও তৈরি হবে।তার নার্সারি থেকে চারা কিনতে আসা আটোয়ারী এলাকার শফিকুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি জুয়েল ভাইয়ের নার্সারিতে ভালো মানের আঙুরের চারা পাওয়া যায়। তাই এখানে এসে দুটি জাতের আঙুরের চারা কিনেছি। দুটি গাছের দাম প্রায় ১ হাজার টাকা পড়েছে। গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে উঠলে এবং ফলন ভালো হলে ভবিষ্যতে আরও চারা কিনে নিয়ে যাব।”এদিকে, জুয়েলের আঙুর চাষ ও চারা উৎপাদনের সাফল্যে আশপাশের কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকেই তার বাগান পরিদর্শন করে আঙুর চাষের পদ্ধতি, চারা উৎপাদন, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা সম্পর্কে জানতে চাইছেন। ফলে রুহিয়ার কৃষিতে আঙুর চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয়দের মতে, একসময় যেসব ফসল এ অঞ্চলে চাষের কথা ভাবাই কঠিন ছিল, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কারণে এখন সেসব ফসলও চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জুয়েল রানার আঙুরের নার্সারি তারই একটি উদাহরণ। সঠিক সরকারি সহযোগিতা ও কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ পেলে রুহিয়ায় আঙুর চাষ ও চারা উৎপাদন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুবাস চন্দ্র রায় বলেন, “জুয়েল রানা আঙুরের চারা উৎপাদন ও নার্সারি করে চমক সৃষ্টি করেছেন উদ্যোক্তা জুয়েল রানা চমৎকার সাফল্য পেয়েছেন। আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আঙুর চাষ ও বাগান ব্যবস্থাপনায় যে ধরনের পরামর্শ প্রয়োজন, তা তাকে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকলে সেগুলোও তাকে জানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।” জুয়েল রানার মতো উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে নতুন প্রজন্মের কৃষকদের মধ্যে বাণিজ্যিক আঙুর চাষের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।