সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের সামাজিক বনায়নের প্রায় ৪,৫০০টি গাছ কাটার পরিকল্পনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। শনিবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ইচ্ছারচর এলাকায় ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এম ডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সুজন তালুকদার এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সদস্য মোফাজ্জল হাসান। এছাড়া স্থানীয় সামাজিক বনায়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও নারী সদস্যসহ পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ওই সড়কে বর্তমানে কোনো সম্প্রসারণ বা উন্নয়নের কাজ নেই। অথচ বন বিভাগ উন্নয়নের দোহাই দিয়ে ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে উজাড় করেছে। বক্তাদের অভিযোগ, এটি কোনো উন্নয়নমূলক প্রয়োজন নয়, বরং বন বিভাগের একটি অসাধু সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই গণ-বৃক্ষনিধনে মেতে উঠেছে।
কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়: সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে গাছ কাটার চলমান কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের লভ্যাংশ যথাযথভাবে পরিশোধ করা, গাছ কাটার নেপথ্যে জড়িত বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং কেটে ফেলা গাছের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওই সড়কে দ্বিগুণ পরিমাণ নতুন সামাজিক বনায়ন করা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা পুরোপুরি বন্ধ না করা হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন কার্যালয়ের সামনে কঠোর অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে সামাজিক বনায়নের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ গাছ কাটার পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ