আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৫২০ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে ধাতুটির দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে। একই সময়ে রুপার বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়, যেখানে দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৬৬ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
স্বর্ণ ও রুপার এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের নতুন ঘোষণা। দেশটির ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ১০ থেকে ৩০ বছর মেয়াদি নোট ও বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। আগে প্রতিটি কার্যক্রমে ২ বিলিয়ন ডলারের বন্ড কেনা হলেও এখন তা বাড়িয়ে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানোই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য, কোনো সংকট মোকাবিলা করা এর লক্ষ্য নয়।
এই ঘোষণার পরপরই মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদহার দ্রুত নিম্নমুখী হয়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার কমে ৫ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মঙ্গলবার ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশে ছিল। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার এই হার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহারও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। সাধারণত বন্ডের সুদহার কমলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, কারণ স্বর্ণের বিপরীতে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে বন্ডের সুদহার কমলে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় হ্রাস পায়।
বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থাও ভূমিকা রেখেছে। প্রধান কয়েকটি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান পরিমাপকারী সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৭০-এ নেমেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের জুলাই মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। নীতিনির্ধারকরা মূল্যস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ সুদহার নিয়ে কী ধরনের ইঙ্গিত দেন, তার ওপর ভিত্তি করেই স্বর্ণের বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফেডের পক্ষ থেকে সুদহার কমানোর কোনো সংকেত পাওয়া গেলে স্বর্ণ ও রুপার দাম আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে রুপার দামও ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার ২০৩০ জিএমটি পর্যন্ত স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৫২০ ডলারে পৌঁছায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুর্বল ডলার, কম সুদহারে বাড়ছে স্বর্ণের চাহিদা।
সূত্র: যুগান্তর