কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাত বাংলাদেশির ময়নাতদন্ত আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে তাদের মরদেহ কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য মরদেহসংক্রান্ত কাগজপত্র কলকাতার নিউমার্কেট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। ভারতের মালদহের বাসিন্দা ও দেবাশীষ দত্তের আত্মীয় কৃষ্ণ নন্দী জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর অনুমতিপত্র হাতে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপরই ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শুরু হবে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মরদেহগুলো বাংলাদেশের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
নিহতদের তালিকায় রয়েছেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪)। এছাড়া এই ঘটনায় ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু (৪০), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার প্রাণ হারিয়েছেন। গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ দত্ত তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়েছিলেন। বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা শেষে ১৩ দিন পর সোমবার রাতে তারা কলকাতায় ফিরে আসেন। মঙ্গলবার কেনাকাটা শেষে বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে, কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার বাবা দিলীপ দত্ত ও মা স্বপ্না দত্ত শোকে পাথর হয়ে গেছেন। পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য হিসেবে দেবাশীষের বাবা এখন স্বজনদের নিয়ে মরদেহ ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। বাড়িতে সাত বছরের মহিমা দত্ত এখনো বুঝতে পারছে না যে তার বাবা, মা ও ছোট ভাই আর নেই। সে বাড়ির সামনে স্বাভাবিকভাবেই খেলছে, যা উপস্থিত স্বজনদের ব্যথিত করছে। দেবাশীষের সহকর্মী ও স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জানান, এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। স্বজন ও সহকর্মীরা এখন কেবল প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির ময়নাতদন্ত আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাড়িতে থাকা দেবাশীষের সাত বছরের মেয়ে মহিমা দত্ত এখনো পুরো ঘটনার গভীরতা বুঝে উঠতে পারেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৃহস্পতিবার সকালে অন্য দিনের মতোই বাড়ির সামনে খেলছিল সে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাড়িতে এত মানুষের ভিড় কেন, সেটিও তার কাছে স্পষ্ট নয়।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ