মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই গাজায় ১৮৬ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। গাজার পরেই এই তালিকায় রয়েছে সুদানের নাম, যেখানে চলমান সংঘাতের মধ্যে গত বছর ৭১ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন।
এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডাটাবেস ও জাতিসংঘের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ৯০৭ জন মানবিক সহায়তাকর্মী হতাহত বা অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫০ জন নিহত হয়েছেন, যা আগের বছরের ৩৮৭ জনের তুলনায় কিছুটা কম মনে হলেও, সামগ্রিক হতাহত ও অপহরণের সম্মিলিত সংখ্যা ৮৩৩ থেকে বেড়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩২৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং গত তিন বছরে বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে কেবল গাজা ও পশ্চিম তীরেই ৫৬০ জনের বেশি ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সস্তা ও সহজলভ্য সশস্ত্র ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলার প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছে জাতিসংঘ। এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হামলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন।
পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ২০২৬ সালের শুরু থেকেও ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, চলতি বছর এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৩৯ জন অপহৃত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মীরা জীবন বাজি রেখে খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৪ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৮৭ জন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৬ সালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ