ইরান ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী এবং উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন গাড়ি চালানোর মৌসুমের বাড়তি চাহিদার কারণে অনেক দেশই জ্বালানি সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারগুলো। যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে নানা বাধা সত্ত্বেও দেশ দুটির রিফাইনারিগুলো তাদের জ্বালানি রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিশ্বজুড়ে তেল শোধনের পরিমাণ কমে প্রতিদিন প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল কম। অথচ বর্তমানে বিশ্বে প্রতিদিন তেলের চাহিদা ১০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি। এই ঘাটতির সুযোগে যেসব দেশ আগে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করত, তাদের অনেকেই এখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দুই দেশ বাড়তি রপ্তানি থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করতে থাকবে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট লিন ইয়ে জানান, আঞ্চলিক বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিলে ভারত এশিয়ার ‘সুইং সাপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করে যাবে। রিলায়েন্স ও নায়ারার মতো রপ্তানিমুখী রিফাইনারিগুলোতে উচ্চমাত্রায় উৎপাদন অব্যাহত থাকায় ভারত দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি রপ্তানি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্যমতে, ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ বিভিন্ন ডিস্টিলেট জ্বালানির রপ্তানি বেড়ে প্রতিদিন ১৯ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা একটি রেকর্ড। একই সময়ে দেশটিতে জেট ফুয়েল রপ্তানি হয়েছে প্রতিদিন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ব্যারেল, যা মে মাসের রেকর্ড ৪ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেলের তুলনায় সামান্য কম।
সূত্র: মানবজমিন