হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উত্তর পাশের অ্যাপ্রোন এলাকায় প্রায় ১১ বছর ধরে চারটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থাকায় এগুলো এখন আর উড্ডয়নের উপযোগী অবস্থায় নেই। বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে রাখা এই উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে বারবার চিঠি দিলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, উড়োজাহাজগুলো বিক্রির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশি-বিদেশি দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে উড়োজাহাজগুলো দ্রুত সরিয়ে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং, পার্কিং এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণের পথ সুগম করতে চায় কর্তৃপক্ষ।
এই সংকট নিরসনে গত ১৬ জুলাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপযুক্ত ক্রেতা না পাওয়ায় উড়োজাহাজগুলো ওজন হিসেবে স্ক্র্যাপ বা ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। বর্তমানে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে বেবিচক।
পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের আটটি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি, জিএমজি এয়ারলাইন্সের একটি এবং অ্যাভিয়েন চ্যার্টারের একটি রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় এগুলোর ইঞ্জিন, অ্যাভিওনিক্স, ককপিটের যন্ত্রপাতি ও ল্যান্ডিং গিয়ার পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী, এগুলোকে পুনরায় সচল করতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, তা বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া পুরোনো মডেলের হওয়ায় এগুলোর যন্ত্রাংশের চাহিদাও সীমিত।
বেবিচকের কাছে এই চারটি বন্ধ এয়ারলাইন্সের মোট পাওনা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বাকি পাওনা রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও অ্যাভিয়েন চ্যার্টারের কাছে। এখন ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলামে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করছে বেবিচক। কারণ, বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে উড়োজাহাজগুলোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মূল্যায়ন করতে যে খরচ হবে, তা সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: Aviation NewsBD