ফৌজদারি মামলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিধায়করা শীর্ষে অবস্থান করছেন। সুপ্রিম কোর্টে নিযুক্ত আদালত বান্ধব বা অ্যামিকাস কিউরি বিজয় হংসরিয়ার পেশ করা সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪ জন বিধায়কের মধ্যে ১৭০ জনই বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত, যা রাজ্যের মোট বিধায়ক সংখ্যার ৫৮ শতাংশ। এছাড়া রাজ্যের ৪২ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১৬ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীদের ফৌজদারি মামলার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যার বিরুদ্ধে মোট ২৯টি মামলা ঝুলে আছে। এই তালিকায় শীর্ষে থাকা তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে ৮৯টি মামলা রয়েছে। তৃতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছেন কর্নাটকের ডিকে শিবকুমার ও অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নায়ডু, যাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১৯টি করে মামলা আছে। এছাড়া কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশনের বিরুদ্ধে ১৮টি, ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেনের বিরুদ্ধে ৫টি এবং মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফডণবীসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে।
তালিকায় থাকা অন্যান্য মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে হিমাচল প্রদেশের সুখবিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে ৪টি, তামিলনাড়ুর সি জোসেফ বিজয় ও বিহারের সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২টি করে মামলা রয়েছে। এছাড়া সিকিমের প্রেম সিং তামাং, পাঞ্জাবের ভগবন্ত মান, ওড়িশার মোহনচরণ মাঝি এবং রাজস্থানের ভজনলাল শর্মার বিরুদ্ধে একটি করে মামলা চলমান। জাতীয় পর্যায়েও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলার হার উদ্বেগজনক। বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩ জন সদস্যের মধ্যে ২৫১ জন এবং রাজ্যসভার ২৩৩ জন সদস্যের মধ্যে ৭৫ জন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত।
বিধায়কদের ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কেরল, যেখানে ৫৭ জন বিধায়ক অভিযুক্ত। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশের ৫৬ জন, তেলঙ্গানার ৪৯ জন, ঝাড়খণ্ডের ৪৫ জন এবং ওড়িশার ৪৫ জন বিধায়ক বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন