কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার অব্যাহত অবরোধ ও সামরিক তৎপরতার কারণে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ কৃষি অর্থনীতি ও জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে অন্তত ৫০টি কার্গো জাহাজে রুশ বাহিনী হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ওডেসার উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইউক্রেন একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে পরিচিত। দেশটি বিশ্বের মোট সূর্যমুখী তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ, বার্লির ১৮ শতাংশ, ভুট্টার ১৬ শতাংশ এবং গমের ১২ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে ইউক্রেনের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি বিভিন্ন বন্দরে আটকা পড়ে আছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির অর্থনীতিতে; অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউক্রেনের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি দেড় শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উৎপাদন ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাতেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। চলতি বছর ইউক্রেনে ৬ কোটি টন শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও রপ্তানির পূর্বাভাস ১২ শতাংশ কমিয়ে ৪ কোটি টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। সমুদ্রপথ বন্ধ থাকায় পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও মলদোভার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্য দিয়ে স্থলপথে কৃষিপণ্য পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তবে দানিয়ুব নদীর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় এই বিকল্প পরিবহন পথটিও বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
কৃষ্ণসাগরের এই অস্থিরতা কেবল ইউক্রেন নয়, রাশিয়ার শস্য রপ্তানিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আগস্ট মাসে রাশিয়ার শস্য রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে চলমান এই সংকট ইউক্রেন ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সূত্র: যুগান্তর