আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয় ধরনের তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারার পর এখন বাজার কিছুটা স্থির হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ২৮ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে অপরিবর্তিত থাকতে দেখা গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১৪ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেই গত সপ্তাহে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব পুনরায় অনুভূত হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক ফিলিপ নোভা-এর মার্কেট ইনসাইটস প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেবার মতে, আগস্টের শুরুর দিকে তেলের বাজারে যে দরপতন দেখা গিয়েছিল, তা থেকে বাজার প্রায় পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তেলের দাম খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা সীমিত। বিশেষ করে তেলবাহী ট্যাংকার বা গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোয় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সুযোগ কম বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তিনি।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন তেলের বাজারের ওপর। যদিও বর্তমানে দামের বড় কোনো পরিবর্তন নেই, তবুও অঞ্চলটির উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বাজারের গতিপ্রকৃতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: যুগান্তর