২০০৩ সালে খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিল। সেই সিরিজে টাইগাররা ইনিংস ব্যবধানে দুই ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল। বিশেষ করে প্রথম টেস্টে মাত্র ৪২.২ ওভারে ৯৭ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ১৩২ রানে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে বাংলাদেশ যেন সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার মধুর প্রতিশোধ নিল। ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনেই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে স্বাগতিকদের মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় সফরকারীরা।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৪২৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে ছিল ২২৮ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। এখনো তারা ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার জেসন গিলেস্পি। তিনি মনে করেন, বর্তমান বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণের গভীরতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে এবং তারা এখন আর নির্দিষ্ট এক-দুজন বোলারের ওপর নির্ভরশীল নয়।
ডারউইন টেস্টে পেসারদের পারফরম্যান্স নিয়ে গিলেস্পি বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন হাসানের। একই সঙ্গে ইবাদত, তাসকিন, মেহেদী ও তাইজুলের বোলিংয়েরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। গিলেস্পির মতে, বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই অস্ট্রেলিয়াকে দুইশর নিচে আটকে রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, শরীফুল পরের টেস্টে দলে ফিরছেন, যা দলের শক্তি বাড়াবে। তবে নাহিদ রানার গতি ও আগ্রাসন দেখার অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান এই সাবেক অজি তারকা।
দুই টেস্টের মাঝে ২৩ বছরের দীর্ঘ বিরতিকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করেন না গিলেস্পি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিয়মিত অস্ট্রেলিয়া সফর করা উচিত। সিডনি, মেলবোর্ন ও অ্যাডিলেডের মতো বড় ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশের খেলা দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন নিয়মিত সিরিজ আয়োজিত হবে বলেই তার বিশ্বাস।
আগামী দশকে বাংলাদেশ আরও অনেক তারকা ক্রিকেটার উপহার দেবে বলে আশাবাদী গিলেস্পি। তিনি তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ রফিক ও মাশরাফি বিন মর্তুজার মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবসময়ই গ্রেট খেলোয়াড়দের বিচরণ ছিল। তার বিশ্বাস, আগামী দিনেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন নতুন হিরো তৈরি হবে যারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করবে।
সিরিজের প্রথম টেস্টে টাইগারদের হারটা ইনিংস এবং ১৩২ রানে।
সবকটি উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা তুলেছিল মাত্র ৯৭ রান।
অস্ট্রেলিয়া খেলতে পেরেছে মাত্র ৫৩ ওভার।
সেবার দুই ম্যাচ সিরিজের দুটোতেই হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে।
স্বাগতিকরা কোনোমতে দুই সেশন পার করলেও অলআউট হয়েছে দ্রুতই।
সব সংস্করণের জন্য কোচিং স্টাফরা অনেকগুলো পেসার তৈরি করছে।
পেস আক্রমণে এই গভীরতা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ওরা অবশ্যই সিডনি, মেলবোর্ন, অ্যাডিলেডের মতো বড় মাঠে খেলতে চাইবে।
তামিম একজন ওয়ান্ডারফুল প্লেয়ার ছিল।
সূত্র: যুগান্তর