রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন এবং বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার চারপাশের ১১০ কিলোমিটার নৌপথে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস চালুর বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীকে ঘিরে থাকা এই সার্কুলার নৌপথে যাত্রী ও পর্যটনসেবা চালুর জন্য বর্তমানে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ ও পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী দানী জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই সেবা কীভাবে কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যেহেতু বৈদ্যুতিক বা সৌরবিদ্যুৎচালিত নৌযানের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ইউটিলিটি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
বিআইডব্লিউটিসির তথ্য অনুযায়ী, অতীতে ১২টি ওয়াটার বাস তৈরিতে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও আয় হয়েছিল মাত্র ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৩৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সড়কপথে দ্রুত যাতায়াত, বুড়িগঙ্গার দূষণ, সদরঘাটের যানজট, দুর্বল ল্যান্ডিং সংযোগ এবং বালুবাহী নৌযানের কারণে গতি কমে যাওয়াই ছিল সেই ব্যর্থতার মূল কারণ। বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, আগের উদ্যোগের সমস্যাগুলো সমাধান না করে নতুন করে ওয়াটার বাস চালু করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে। এর জন্য নির্ভরযোগ্য ফিডার সার্ভিস, ব্যস্ত সময়ে পর্যাপ্ত নৌযান, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ রক্ষার নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
নদী রক্ষায় ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় ৮৩৫ একর নদীতীরের জমি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএর জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার নদীগুলোতে তরল বর্জ্য ফেলার ৪২৪টি উৎস শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৪৪টিই বেসরকারি কারখানা। সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাতের মতে, বড় প্রকল্পের চেয়ে নিয়মিত ড্রেজিং, নদীর বাঁক সোজা করা এবং বর্জ্য অপসারণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
নৌপথ পুনরুজ্জীবনে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার অংশ হিসেবে গত ৯ ও ১৪ জুলাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে গাবতলী-সদরঘাট রুটে বাণিজ্যিক গণপরিবহন পরিচালনায় আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে উচ্চগতির লঞ্চ, স্পিডবোট, ক্যাটামারান ও পর্যটন নৌযান চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে সার্কুলার নৌপথের ২০ কিলোমিটার এলাকায় ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং আরও ৫২ কিলোমিটারের কাজ বর্তমানে শেষের পথে রয়েছে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ