আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান মহাসড়কের দক্ষিণ চট্টগ্রাম অংশে চলাচলকারী যানবাহন মালিক ও চালকরা দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ্ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও চরম হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওসি সালাহ্ উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই চন্দনাইশের মোজাফফরাবাদ থেকে লোহাগাড়ার চুনতি পর্যন্ত মহাসড়কের দীর্ঘ অংশে অনিয়ম ও ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও এই পুলিশ কর্মকর্তার মেয়াদে মহাসড়কে দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত প্রায় সাত মাসে মহাসড়কের এই অংশে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ জন সাধারণ যাত্রীর অকালমৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো বা দুর্ঘটনা প্রতিরোধের চেয়ে পুলিশ প্রশাসন অবৈধ অর্থ আদায়েই বেশি ব্যস্ত থাকে।
পরিবহন মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, মিনিবাস এবং ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন বিভিন্ন যানবাহনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। গাড়ির বৈধ কাগজপত্র বা চালকের লাইসেন্স না থাকলে সরাসরি মামলার ভয় দেখিয়ে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা চুক্তি করা হয়।
ঝামেলা এড়াতে সরাসরি নগদ লেনদেন না করে নির্ধারিত ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে নিয়মিত এই চাঁদার টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যারা এই মাসিক চুক্তিতে রাজি হন না, তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল অসম্ভব করে তোলা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি ও বাসচালক জানান, মহাসড়কে গাড়ি নিয়ে বের হলেই তাদের জিম্মি হতে হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তা তো দূরের কথা, সময়মতো চাঁদার টাকা না পেলে দিনের পর দিন গাড়ি আটকে রাখা হয়।
বাজালিয়া ইউনিয়নের ড্রাইভার মোঃ হানিফ বলেন,আমার গাড়ি করে গাছ নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিনিয়ত হাইওয়ে থানা পুলিশ টাকা দাবি করে, না দিলে মামলা এবং গাড়ি নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়, তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়। তাদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসী এবং পরিবহন মালিকরা অবিলম্বে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এই অরাজকতা, অনিয়ম ও চাঁদাবাজি বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ্ উদ্দিন বলেন,আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং মিথ্যা কথা,আমি এবং আমার থানার পুলিশ কোন অনিয়মের সাথে জড়িত নয়।