আব্দুল্লাহ আল মারুফ, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা >>> চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ কাটার সময় গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনায় ৯ জন শ্রমিক নিহত এবং অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কুমিরা এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।দুর্ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিক ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সুচিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।এ সময় জেলা প্রশাসক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনো ধরনের ত্রুটি বা ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে আহত ও নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসনে হাসপাতাল প্রশাসন, কারখানা মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।দুর্ঘটনায় নিহত প্রতিটি পরিবারের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা গণমাধ্যমকে জানান, ‘নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BSBRA) পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক গাফিলতি বা কারও কোনো দায়দায়িত্ব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।হাসপাতালে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক নিহত শ্রমিকদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন তিনি।