বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক মাইকেল স্টিভেন্সের তথ্যমতে, এই প্রণালিতে সামুদ্রিক চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। যদিও জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের টোল বা ফি আদায়ের বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টিভেন্স উল্লেখ করেন যে, ওমান সরাসরি ইরানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এতে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নীরব সমর্থন রয়েছে। বিশ্লেষকের মতে, এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালির নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়ার পথে রয়েছে। ইরান মূলত আসন্ন সম্ভাব্য আলোচনার আগে নিজেদের দরকষাকষির সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে নিতে এই কৌশল অবলম্বন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মাইকেল স্টিভেন্স আরও বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই উন্নয়নকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক বা কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা কঠিন। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্ষমতার লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। এই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তাই এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইরান ও জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে এই নেপথ্য আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: যুগান্তর