মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনকারী বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিংগাইর থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে তিনি এই আল্টিমেটাম দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম।
এর আগে বিকেলে প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থী সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ এলাকায় জড়ো হয়ে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরে তারা সিংগাইর থানায় গিয়ে অবস্থান নেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট বিকেলে ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটির সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। মোটরসাইকেল চালক কাওসার পরবর্তীতে বাসটিকে অনুসরণ করে সিংগাইরের ভূমদক্ষিণ এলাকায় গতিরোধ করেন এবং অজ্ঞাত ৩-৪ জনের সহায়তায় বাসের দুই পাশের সব কাচ ভাঙচুর করেন।
এই হামলায় পূর্ণিমা, আখি আক্তার ও রিনভি নামের তিন শিক্ষার্থী এবং বাসচালক মো. সাজ্জাদ হোসেনসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্র উদয় চক্রবর্তীও রয়েছেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাসচালক বাদী হয়ে মঙ্গলবার সিংগাইর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪ ও ৩২৭ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় কাওসারকে প্রধান আসামি করে ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রধান আসামি কাওসার পলাতক রয়েছেন।
সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন, ট্রেজারার ড. ছাবিনা শারমিন, প্রক্টর ড. আজম খান, সিংগাইর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফাহিম আসজাদ, ছাত্রসংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছামছুল আরিফসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে বিকেল ৬টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২২০-২৫০ শিক্ষার্থী উপজেলা ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ এলাকায় জড়ো হয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন করেন।
ভাঙা কাচের আঘাতে ৩ শিক্ষার্থী—পূর্ণিমা (২১), আখি আক্তার (২১) ও রিনভি (১৯) আহত হন।
সূত্র: Daily Amar Desh