ত্রি-দেশীয় সিরিজের লীগ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। এই জয়ে ফাইনালের প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবে সম্পন্ন করল টাইগাররা। আগামী ১২ই আগস্ট ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হবে এই দুই দল। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে প্রোটিয়া ব্যাটাররা। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাত ধরে প্রথম উইকেট পতনের পর আবু হাশিম ৫০ বলে ২৫ রান করা জেপি কিংকে সাজঘরে ফেরান। এরপরই শুরু হয় পেসার রহনতদৌলা বর্ষণের দুর্দান্ত বোলিং তোপ।
বর্ষণ একের পর এক উইকেট তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তিনি অঙ্কগোমোডিটসে সেলেটসওয়ানেকে শূন্য রানে ফেরানোর পর গোল্ডেন ডাকে বিদায় করেন ড্যানিয়েল স্মিথ ও পিরিকে। বর্ষণের এই বিধ্বংসী স্পেলে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে। যদিও মাইকেল ভ্যান বুরেন ১০৬ বলে ৭৩ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন এবং শ্লাল্ক এঙ্গেলব্রেক ৫৮ বলে ৪৫ রান করেন, তবুও শেষ পর্যন্ত ৪৪ ওভারে ১৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের হয়ে বর্ষণ ৫টি উইকেট নেন। এছাড়া আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ২টি এবং রিজওয়ান, সামিউন বশির রাতুল ও আবু হাশিম একটি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল শুরুটা বেশ ইতিবাচক করে। যদিও ২৪ রানের মাথায় জাকির হাসান ২৬ বলে ২০ রান করে আউট হন, তবে এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন শাহাদাত হোসেন দিপু ও মাহফিজুল ইসলাম রবিন। দুজনেই সাবলীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন। রবিন ১০০ বলে ৬১ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস খেলে বিদায় নিলেও দিপু অবিচল ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইফতিখার হোসেন ইফতিকে নিয়ে ৬৯ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৯০ বলে অপরাজিত ৭২ রান করেন দিপু এবং ইফতি ১৫ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট তুলে ম্যাচসেরা পেসার রহনতদৌলা বর্ষণ।
১০ বলে শূন্য রান করা অঙ্কগোমোডিটসে সেলেটসওয়ানেকে ফেরানোর পর গোল্ডেন ডাকে বিদায় করেন ড্যানিয়েল স্মিথ ও পিরিকে।
প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মাইকেল ভ্যান বুরেন, চাপের মুখে হাঁকান দারুণ এক ফিফটি-১০৬ বলে খেলেন ৭৩ রানের ইনিংস।
এই তিন উইকেট তুলেই প্রতিপক্ষের ইনিংসের অর্ধেক গুঁড়িয়ে দেন বর্ষণ।
সেই ধাক্কা সামলে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।
বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট নেন বর্ষণ, ২টি নেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, আর ১টি করে উইকেট পান রিজওয়ান, সামিউন বশির রাতুল ও আবু হাশিম।
উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শট খেলেন জাকির।
তবে ২৪ রানের মাথায় ভাঙে ওপেনিং জুটি।
অন্য প্রান্তে দারুণ ছন্দে ছিলেন রবিনও।
সূত্র: মানবজমিন