জয়ের মানসিকতা ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দল। রোববার দুপুরে যশোরের শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে আবাসিক ক্যাম্পের অনুশীলন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন কোচ জেরার্ড এমলিন জোন্স এবং দলের নতুন সদস্য অ্যাডাম আব্বাস। দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সামর্থ্য নিবিড়ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান কোচ। তিনি জানান, কেবল বর্তমান প্রতিযোগিতাই নয়, বরং অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের আসন্ন সব আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের কথা মাথায় রেখেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলটি ইতোমধ্যে চারটি প্রীতি ম্যাচ সম্পন্ন করেছে। এসব ম্যাচ থেকে খেলোয়াড়রা শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত অবস্থান এবং চাপের মুখে খেলার গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। মাঠের পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে খেলোয়াড়দের স্ট্যামিনা ও ভারসাম্য বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন কোচ। জেরার্ড এমলিন জোন্সের মতে, দলের মূল লক্ষ্য হলো ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রেখে দেশের জন্য সেরাটা দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনা।
দলের নতুন মুখ অ্যাডাম আব্বাস সম্পর্কে কোচ বলেন, তিনি অত্যন্ত পেশাদার, বিনয়ী এবং শেখার প্রবল আগ্রহসম্পন্ন একজন ফুটবলার। তাকে একজন দক্ষ গোলদাতা হিসেবে গড়ে তোলার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে কোচিং স্টাফের। ইংল্যান্ড থেকে আসা ১৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও বার্নলির যুব দলে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। রাইট উইঙ্গার হিসেবে পরিচিত হলেও প্রয়োজনে সেন্টার ফরোয়ার্ড বা নম্বর ৯ পজিশনেও তিনি সমান দক্ষ।
বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে গর্বিত অ্যাডাম আব্বাস জানান, হামজা চৌধুরী ও ইয়াসিন আলফি রেজার মতো তরুণদের জাতীয় দলে খেলা তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে পরিশ্রম করলে জাতীয় দলকে বড় সাফল্য এনে দেওয়া সম্ভব। আসন্ন এএফসি এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে ভালো পারফরম্যান্স করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। জাতীয় দল ও টেকনিক্যাল টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, এই পরিশ্রমই ভবিষ্যতে দলের সাফল্যের চাবিকাঠি হবে।
জয়ের মানসিকতা নিয়ে অনেক দূর যেতে চায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দল।
অনুভূতি জানাতে গিয়ে অ্যাডাম আব্বাস বলেন, বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামতে পেরে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত।
কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে পরিশ্রম চালিয়ে গেলে জাতীয় দল দেশকে বড় সাফল্য এনে দিতে পারবে।
সূত্র: যুগান্তর