ভারতের বেঙ্গালুরুতে ‘বাংলাদেশি’ শনাক্ত করার কথিত অভিযানে শত শত পরিযায়ী শ্রমিককে আটকের অভিযোগ উঠেছে। পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ, অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিস, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স রাইটস ইউনিয়ন এবং অল ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব ট্রেড ইউনিয়নস—এই চারটি সংগঠন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিচালক ও বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনারের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, আটককৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন।
অভিযোগকারী সংগঠনগুলোর ভাষ্যমতে, শনিবার ভোরে বিভিন্ন বস্তি ও শ্রমজীবী এলাকায় পুলিশি অভিযানে বেআইনি আটক, মারধর ও অমানবিক আচরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নামে তল্লাশি চালায়। বৈধ নথিপত্র দেখানোর পরও অনেককে জোরপূর্বক পুলিশের জিপ বা বাসে তুলে থানা, কনভেনশন সেন্টার ও ম্যারেজ হলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিযানে ব্যান্ডেপাল্যা এলাকায় দুই শতাধিক, হেব্বাগোডিতে প্রায় ১৫০ জন এবং পারাপ্পানা অগ্রহারা এলাকায় ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ভার্থুর, সোমাসুন্দরাপাল্যা, হোয়াইটফিল্ড, মহাদেবপুরা ও মারাঠাহাল্লি এলাকায়ও ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ রয়েছে।
সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ভার্থুর থানায় আটক কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে। হেব্বাগোডিতে পুলিশ একটি বসতির দরজা ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং ৫০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করে। আটক ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত বার্তা ও কলের তথ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নম্বরের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এমন কয়েকজনকে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে পাঠানো হয়েছে। তবে সংগঠনগুলোর দাবি, ফোনে বিদেশি নম্বর থাকা কোনো ব্যক্তির বিদেশি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।
এই অভিযানকে ‘বেআইনি ও সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে সংগঠনগুলো অবিলম্বে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনার স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে, অভিযানে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য নথি সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে।
সূত্র: Daily Amar Desh