গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রায় অবস্থিত কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আহমদুল্লাহ ও উপাধ্যক্ষ ইফতার হোসেনের অপসারণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। রোববার দুপুরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় কলেজ প্রাঙ্গণে ভাঙচুরের পাশাপাশি চার থেকে পাঁচটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের নির্ধারিত সরকারি কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন না করে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ আওয়ামী লীগের দোসরদের সাথে যোগসাজশ করেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অনুষ্ঠান না করে ৩ আগস্ট সকালে নামমাত্র আয়োজন করেই তারা নিকলি হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চলে যান। এই ঘটনাকে জুলাই বিপ্লবের অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করে কলেজকে ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত’ করার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ হোসেন জানান, জুলাই মাসের শহীদদের অবমাননা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষা করার কারণেই মূলত ক্যাম্পাসজুড়ে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চন্দ্রা ত্রিমোড় বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন জানান, দুপুর ১২টার দিকে মিছিল শুরুর পর তিনি চার-পাঁচটি বিকট শব্দ শুনেছেন, যা পরে পুলিশের উপস্থিতিতে শান্ত হয়। আতঙ্কিত শিক্ষার্থী সোনালী আক্তার জানান, মিছিল ও বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আহমদুল্লাহ বলেন, সরকারি বিধান মেনেই তারা সব কর্মসূচি পালন করেছেন। ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকায় বিধি অনুযায়ী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করা হয়েছে। কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেলিম জাহান জানান, বৃষ্টির কারণে মাঠের পরিবর্তে শিক্ষক মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে সমঝোতার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের অনুষ্ঠানটি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উদযাপনের কথা থাকলেও অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.
কিছুক্ষণ পর পুলিশের গাড়ি এলে পরিবেশ শান্ত হয়।’
সূত্র: Daily Amar Desh