আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম >>> সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সর্বস্ব হারানো চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ১০০টি পরিবারের জীবনে ফিরছে স্বস্তি। সরকারি উদ্যোগে দুর্যোগ-সহনীয় ঘর পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই পরিবারগুলোর নতুন জীবনের স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এই নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হবে।চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাঁশখালী পৌরসভা এবং উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন থেকে মোট ১০০টি পরিবারকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। পুনর্বাসন সুবিধার সমবণ্টন নিশ্চিত করতে প্রতিটি এলাকা থেকে ১০টি করে পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে যেসব পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছিল, তাদের পুনর্বাসন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সরকারি অর্থায়নে ও জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্মিত এসব ঘরের চাবি আগামী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। আশা করছি, এর ফলে অনিশ্চয়তায় থাকা পরিবারগুলো নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সাহস পাবে।”প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন ঘরগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়িত্ব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর আরসিসি পিলারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ভবিষ্যতে বন্যাসহ অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেক কমিয়ে আনবে। মজবুত কাঠামো, উন্নতমানের কাঠ ও টিন ব্যবহার করে প্রতিটি ঘরকে দুর্যোগ-সহনীয় নকশায় তৈরি করা হয়েছে।প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। বাসযোগ্যতা বাড়াতে ঘরের ভেতরে দুটি পৃথক কক্ষ এবং দৈনন্দিন সুবিধার্থে ৫ ফুট বাই ৫ ফুট আয়তনের একটি সংযুক্ত বারান্দা রাখা হয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় যারা সম্পূর্ণভাবে বসতঘর হারিয়েছেন বা যাদের ঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল, তাদেরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, দুর্যোগের পর সরকারের এই উদ্যোগ কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। তবে এলাকাবাসী দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে আবাসন প্রকল্পের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বন্যা প্রতিরোধে স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।