২০২১ সাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ৫৫৭ কোটি ৫১ লাখ রুপি ব্যয় হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। আম আদমি পার্টির সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং এবং সিপিআই(এম) নেতা ড. ভি সিভাদাসানের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা এই খরচের হিসাব তুলে ধরেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোদির বিদেশ সফরের জন্য এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই হিসাবটি চূড়ান্ত নয়। ২০২৬ সালের বেশ কিছু বহুপাক্ষিক সফরের বিল এখনো বকেয়া রয়েছে এবং জুন মাসে ফ্রান্স সফরের চূড়ান্ত হিসাব এখনো সংকলন করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বছরভিত্তিক খরচের তালিকায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ১৮৭ দশমিক ৮৩ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের খসড়া হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৭৪ দশমিক ৫৯ কোটি রুপি খরচ হয়েছে।
বিদেশ সফরের এই ব্যয়ের বিপরীতে দেশে বিনিয়োগের চিত্রও তুলে ধরেছে সরকার। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে মোট ৩৮১ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৩ লাখ কোটি রুপি বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে। তবে সরকার স্বীকার করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দিষ্ট কোনো বিদেশ সফর বা চুক্তির সঙ্গে এই এফডিআই প্রবাহের সরাসরি কোনো বিচ্ছিন্ন সংযোগ নেই।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, উচ্চপর্যায়ের এই সফরগুলো দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈশ্বিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার একটি প্রতিষ্ঠিত মাধ্যম। প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা জানান, এসব সফরের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং স্থিতিশীল সাপ্লাই চেইনসহ বিভিন্ন খাতে অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করেছে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে মোদির বিদেশ সফরকালে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সংকটপূর্ণ খনিজ পদার্থ, ডিজিটাল পেমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, মহাকাশ গবেষণা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে অসংখ্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পরিশেষে, সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, এই সফরগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অবস্থানকে আরও মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যদিও এফডিআই প্রবাহের সঙ্গে নির্দিষ্ট সফরের সরাসরি সম্পর্ক সরকারিভাবে আলাদা করে দেখানো হয়নি।
তবে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে এই অঙ্কটি চূড়ান্ত নয়।
২০২৬ সালের বহুপাক্ষিক সফরগুলোর বেশ কিছু অংশের বিল মেটানো এখনো বাকি রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালের জুনে ফ্রান্সে করা সফরের চূড়ান্ত হিসাবও সংকলন করা হচ্ছে।
কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সূত্র: যুগান্তর