অস্ট্রেলিয়া সফরের তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে মারারা ওভালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে পড়ে সফরকারী দলের ব্যাটিং লাইনআপ শুরুতেই ধসে পড়ে। দলীয় ১০৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়া দলকে টেনে তোলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদের সঙ্গে অপরাজিত ৬৯ রানের জুটি গড়ে দলের সংগ্রহকে ২৬৩ রানের সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যান।
দলের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে মিরাজ বলেন, শুরুতে পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং ছিল। তিনি মেরিট অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছেন এবং স্বাগতিক বোলারদের ভালো জায়গায় বোলিং করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। তানজিদ হাসান শূন্য রানে আউট হন। এরপর সাদমান ইসলাম ৩১ ও মোমিনুল হক ১৬ রান করেন। শান্ত ৩৭ রান করলেও মুশফিকুর রহীম কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। অমিত হাসান ১৫ ও সৌম্য সরকার ১৬ রান করে আউট হওয়ার পর মিরাজ হাল ধরেন। তাইজুল ইসলাম ১০ ও হাসান মাহমুদ ৪ রান করেন। মিরাজ ৭৫ বলে ৫০ রান পূর্ণ করার পর পরের ৫০ রান করেন মাত্র ৫৩ বলে। শেষ পর্যন্ত ১৪১ বলে ১১টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। সিএ একাদশের বোলার কোরি রচিওলি ৫৮ রান দিয়ে ৬টি উইকেট শিকার করেন।
মিরাজ জানান, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে প্রথমবার খেলার অভিজ্ঞতা তার জন্য কঠিন ছিল, তবে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রথম ইনিংস শেষে স্বাগতিকরা ১২ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেটে ৫১ রান সংগ্রহ করেছে। তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে শূন্য রানে এবং হাসান মাহমুদের বলে স্যাম কনস্টাস এক রানে আউট হন। কার্টিস প্যাটারসন ২৬ ও জশ ফিলিপ ২২ রানে অপরাজিত আছেন। মিরাজ বলেন, শুরুতে রানের চিন্তা না করে উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করেছেন, পরে সুযোগ বুঝে রান করা সহজ হয়েছে।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। আগামী ১৩ই আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্ট এবং ২২শে আগস্ট ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। মূল সিরিজের আগে এই প্রস্তুতি ম্যাচে নিজের লড়াকু সেঞ্চুরিকে আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস হিসেবে দেখছেন মিরাজ। তিনি বলেন, সামনে টেস্ট ম্যাচ থাকায় এই ইনিংস তাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে এবং এই মানসিকতা ধরে রাখতে পারলে তা দলের জন্য ইতিবাচক হবে।
স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং তোপের মুখে পড়ে সফরকারী বাংলাদেশ দল যখন ১০৫ রানে ৫টি উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে, ঠিক তখন ৭ নম্বরে নেমে একক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মিরাজ।
দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতার পরও শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদের সঙ্গে অপরাজিত ৬৯ রানের জুটি বাঁধেন।
এতে দলের প্রথম ইনিংস ২৬৩ রানের সম্মানজনক স্থানে পৌঁছে।
তবে ব্যাটিং ব্যর্থতার এই দিনে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দারুণ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ক্রিকেট দলের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
ওদের বোলাররা খুব ভালো জায়গায় বোলিং করেছে।’ কঠিন কন্ডিশনে মিরাজের দুর্দান্ত শতকে প্রথম দিনে বেশ স্বস্তিতে রয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ দলের পুরো ক্রিকেট ডাগআউট।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৭ রানে তানজিদ হাসান ০ রানে ফেরেন সাজঘরে।
শান্ত ৩৭ রান করলেও ব্যর্থ হন মুশফিকুর রহীম (০)।
তাইজুল ইসলাম ১০ রান ও হাসান মাহমুদ ৪ রান করলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি।
টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ইনিংসের শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়েন তারা।
চেষ্টা করেছি কীভাবে উইকেটে মানিয়ে নেয়া যায়।
পরে যখন সুযোগ পেয়েছি, রান করা সহজ হয়েছে।’ দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ার ক্যাঙ্গারুর মাটিতে মূল টেস্ট সিরিজে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
আগামী ১৩ই আগস্ট ডারউইনে শক্তিশালী স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে ২ ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে লাল-সবুজ বাহিনী।
সূত্র: মানবজমিন