জার্মানির একটি বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের ভাষ্যমতে, লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরে এই উদ্বেগজনক বস্তুটি শনাক্ত করা হয়। রাতের অন্ধকারে বিমানবন্দরের এক কর্মী ইউক্রেনের একটি কার্গো উড়োজাহাজের সন্নিকটে ড্রোনটি দেখতে পান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে দ্রুত রোবট মোতায়েন করা হয় এবং বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
একই সময়ে বিমানবন্দরের আকাশসীমায় আরেকটি রহস্যময় বস্তুর সঙ্গে কার্গো উড়োজাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে উড়োজাহাজটি হ্যানোভারে জরুরি অবতরণ করলে সেটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জার্মানির স্পর্শকাতর সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি টার্মিনাল ও লজিস্টিকস কেন্দ্রগুলোর ওপর অনুমতিহীন ড্রোন উড্ডয়নের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি মূলত ন্যাটো মিত্র ও জার্মান সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ইউক্রেনের আন্তোনভ এয়ারলাইনসের একটি ঘাঁটি এবং ডিএইচএলের প্রধান লজিস্টিকস হাব হিসেবেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্যাক্সনি পুলিশের মুখপাত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, পার্কিংয়ে থাকা আন্তোনভ কার্গো উড়োজাহাজের কাছে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোনটি পাওয়া গিয়েছিল। পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডেটোনেটর খুলে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি ধ্বংস করে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পর বুধবার রাত ১টা ৫৫ মিনিটে বিমানবন্দরের উত্তর দিকের রানওয়েতে পুনরায় উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হয়। তবে ঘটনার তদন্ত চলমান থাকায় দক্ষিণ দিকের রানওয়েটি তখনও বন্ধ রাখা হয়েছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ না করলেও পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর জার্মানিতে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সি মাকেইয়েভ সরাসরি রাশিয়ার দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে প্রশ্ন রাখেন, ‘রাশিয়া ছাড়া আর কারা এর পেছনে থাকতে পারে?’ যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক পিটার আর নুম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই জার্মানিতে এ ধরনের সন্দেহজনক ড্রোনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ঘটনাগুলো ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এরপর নিয়ন্ত্রিতভাবে সেটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে পুলিশ।
প্রতিষ্ঠানটি দেশটির আকাশপথে বেশিরভাগ পণ্য পরিবহন করে।
সূত্র: Prothom Alo – International