কোপা দো ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দময় মুহূর্তে বিতর্কের জন্ম দিলেন নেইমার। রেমোকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করার পর মাঠ ছাড়ার সময় প্রতিপক্ষ ক্লাবের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন সান্তোসের এই তারকা। মঙ্গলবার মাঙ্গেইরাও স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষের পর ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। সাংবাদিক ব্রেনো রাইওলের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শেষ বাঁশি বাজার পরপরই রেমোর প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়েছেন নেইমার। যদিও এই উত্তেজনার মূল কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যমতে, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার উদযাপনে নেইমারের ভঙ্গি রেমোর সমর্থকদের কাছে উসকানি হিসেবে মনে হয়েছে। তাদের দুয়ো ও বিদ্রূপের জবাবে নেইমার বারবার ‘বাদ পড়েছ’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের দিকে ইঙ্গিত করে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করেন এবং একপর্যায়ে গালাগালিও করেন। এমনকি তাঁকে নাচতে ও জিহ্বা বের করে বিদ্রূপ করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে রেমোর এক প্রতিনিধিকে পাল্টা গালাগালি করতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার সময় সান্তোসের আরেক তারকা গাবিগোলকেও দূর থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি তখন আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন রেমোর কিছু সমর্থক ও কর্মকর্তা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ফেলেন, তবে সান্তোসের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ড্রেসিংরুমের সামনে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুরো ম্যাচজুড়ে নেইমারের প্রতি রেমোর সমর্থকদের বৈরী আচরণ ছিল। ম্যাচ শুরুর আগে বেঞ্চে থাকাকালীন এবং দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পরও তাঁকে লক্ষ্য করে দুয়ো দেওয়া হয়। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও সান্তোসের জয়ে নেইমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন; তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকেই রনি রুস্তিকো জয়সূচক গোলটি করেন।
ঘটনার পর রেমোর সভাপতি আন্তোনিও কার্লোস তেইশেইরা, যিনি ‘তোনিয়াও’ নামে পরিচিত, নেইমারের কড়া সমালোচনা করেছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘সান্তোসের এমন আচরণের কোনো প্রয়োজন ছিল না। আর বদমাশ নেইমার, যাকে অনেক শিশু আদর্শ হিসেবে মানে, সে এখানে এসে আমাদের উসকানি দিয়েছে। এমন ব্যক্তিদের আদর্শ বানানো সত্যিই দুঃখজনক।’
সূত্র: Prothom Alo – Sports