পানছড়ি প্রতিনিধি মোঃ নূর হোসাইন বাবু।।খাগড়াছড়ি পানছড়ি সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার প্রভাবে কাঁচাবাজারে সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাতে লাগামহীন হয়ে পড়েছে পুরো কাঁচাবাজার। নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বগতিতে চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন উপজেলার নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ।স্থানীয় বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বাজারে দেশি সবজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ঘাটতি মেটাতে বাইরের জেলা ও উপজেলা থেকে সবজি আনতে গিয়ে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাত দেখাচ্ছেন বিক্রেতারা। ফলে প্রায় সব ধরনের কাঁচাসবজি ও কাঁচামরিচের দাম এখন দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ।বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং পটল ও ঢেঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়িয়েছে কাঁচামরিচের বাজারে, যা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। অথচ বন্যা পরিস্থিতির আগে এসব সবজি প্রায় অর্ধেক দামে কেনা যেত বলে জানান স্থানীয় ক্রেতারা।বাজারে আসা দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, উপার্জনের কোনো পরিবর্তন না হলেও সংসার খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় সবজি কেনা কাটছাঁট করেও মোট বাজেট মেলানো যাচ্ছে না। খেটে খাওয়া মানুষের থালায় এখন সাধারণ খাবারের সংস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।এদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, স্থানীয় ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, বন্যার সুযোগ নিয়ে বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত উপজেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি। অন্যথায় নিত্যপণ্যের এই লাগামহীন দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বিষিয়ে তুলবে।